বিএনপি নেতা দু’জন পদত্যাগ করেছেন দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি অভিযোগ তুলে

বিএনপি নেতা দু’জন পদত্যাগ করেছেন দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি অভিযোগ তুলে

 

রাজনীতি ডেস্ক

তাহিরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ফেরদৌস আলম দলীয় সকল পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তারা সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তাহিরপুর শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে ফেরদৌস আলমের পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করা হয়। ওই বক্তব্যে তিনি জানান, শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রায় ২৫ বছর আগে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। দীর্ঘ ১৭ বছর মামলা, হামলা, জেল ও জুলুম সহ্য করে দলীয় রাজনীতি চালিয়ে আসার পরও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে দেশ স্বৈরাচারমুক্ত হলেও নতুন বাংলাদেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।

ফেরদৌস আলম দাবি করেন, ৫ আগস্টের পর তাহিরপুর উপজেলায় লুটপাট ও দুর্নীতির মাত্রা বেড়েছে এবং এতে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আগের মতো এখনও সাধারণ মানুষ লুটপাটকারীদের নাম প্রকাশ্যে বলতে ভয়ে থাকছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই আন্দোলনের সাফল্যকে বিএনপি কার্যত অস্বীকার করছে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়ে গৃহীত ঐকমত্যভিত্তিক প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে কোন দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদত্যাগ স্থানীয় রাজনীতিতে বিভাজন ও নেতৃত্ব ঘাটতির ইঙ্গিত দিতে পারে। দলের অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও দুর্নীতি অভিযোগের প্রেক্ষাপটে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে হতাশা বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া, উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ দলের জনপ্রিয়তা ও ভোট প্রভাবকেও প্রভাবিত করতে পারে।

এর আগে জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতিতে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালনকারী নেতারা দুর্নীতি, অনিয়ম ও প্রভাবশালী নেতাদের অনিয়মের কারণে দলের নীতি ও কর্মপদ্ধতি নিয়ে অসন্তুষ্টির প্রকাশ করেছেন। দলীয় শৃঙ্খলা ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে সমালোচনা হয়ে আসছে।

পদত্যাগের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে রুহুল আমিন ও ফেরদৌস আলমের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই পদত্যাগ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে এবং বিএনপির জনপ্রিয়তা পুনঃস্থাপনে নেতাদের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা ও প্রতিক্রিয়ার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তাহিরপুর উপজেলায় বিএনপির এই দুই শীর্ষ নেতার পদত্যাগের ফলে দলীয় কার্যক্রম ও স্থানীয় সমন্বয় প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, রাজনৈতিক সচেতন নাগরিকরা এই পদক্ষেপকে দলের অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে এক গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ের নেতা পদত্যাগ সাধারণত কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরা হয় না, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি দলের অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও স্থানীয় জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে চাপ তৈরি করতে পারে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ