সারাদেশ ডেস্ক
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর এক নারী কর্মীকে নিজ বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে। সোমবার বিকেলে উপজেলার ৬ নম্বর উত্তর কেরোয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগকারী ও স্থানীয় দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। অভিযোগের পর এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগকারী স্বপ্না আক্তার ওই এলাকার সইদুল ব্যাপারী বাড়ির বাসিন্দা এবং জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মী। তাঁর দাবি, বিএনপির স্থানীয় নেতা স্বপন মৃধা ও শাহজান সম্রাট বিকেলে তাঁর বাড়িতে গিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ না নেওয়ার জন্য ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। অভিযোগে বলা হয়, তাঁকে ঘর থেকে বের না হতে এবং জামায়াতের প্রতীক দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কোনো প্রচারণায় যুক্ত না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্বপ্না আক্তার অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্তরা তাঁর বাড়িতে প্রবেশ করে কঠোর ভাষায় কথা বলেন এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকলে পরিণতি ভালো হবে না বলে হুমকি দেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও রাস্তায় চলাচলের সময় তাঁর ব্যাগ তল্লাশির চেষ্টা করা হয়েছে এবং তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগালি করা হয়। তিনি জানান, অতীতে রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় তাঁর ঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। সাম্প্রতিক হুমকির কারণে তিনি ও তাঁর পরিবার নতুন করে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
স্বপ্নার স্বামীও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, পেশাগত কারণে তাঁকে অধিকাংশ সময় বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। এ অবস্থায় স্ত্রী ও সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁরা শঙ্কিত। তাঁর মতে, রাজনৈতিক বিরোধের কারণে পরিবারের সদস্যদের এভাবে ভয়ভীতি দেখানো অনাকাঙ্ক্ষিত এবং এর প্রতিকার প্রয়োজন।
ঘটনার পর রাতের দিকে ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করা হয়। সেখানে দলের নেতারা দাবি করেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে এলাকায় জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, আগে নারী সমাবেশ এবং উঠান বৈঠকে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত নেতারা আরও বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনায় স্বপ্না আক্তার গণসংযোগ শেষে বাড়ি ফেরার পথে এবং পরে তাঁর বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তারা এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এদিকে অভিযোগে নাম আসা বিএনপি নেতা স্বপন মৃধা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনো কাউকে হুমকি দেননি এবং এ ঘটনায় তাঁর জড়িত থাকার অভিযোগ ভিত্তিহীন। অপর অভিযুক্তের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে একই ধরনের অস্বীকৃতির কথা জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা আলাদাভাবে এলাকায় অবস্থান নেন এবং রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ান। এতে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে অবনতি না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করছেন।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিন মিয়া জানান, এ বিষয়ে থানায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


