ক্রিকেট ডেস্ক
ভারতের সাবেক স্পিনার হরভজন সিং পাকিস্তানের সিদ্ধান্তকে সরাসরি সমালোচনা করেছেন এবং বলেছেন, দেশটি যদি এই বয়কটের সিদ্ধান্তে অটল থাকে, তবে তাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় ধরনের মূল্য দিতে হতে পারে। ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় হরভজন বলেন, “এটা মানুষের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা। বলা হচ্ছে বাংলাদেশকে সমর্থন করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, কিন্তু এতে আসলে কী লাভ? ভারতের এবং পাকিস্তানের ভক্তরা, যারা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখতে আগ্রহী, তাদের কথা কি একবারও ভেবেছে কেউ?”
পাকিস্তান সরকার রবিবার জানিয়েছে, দেশটির জাতীয় দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমতি পেয়েছে। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে তারা অংশগ্রহণ করবে না। হরভজন বলেন, “এই ম্যাচটি নিরপেক্ষ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এখানে কোনো রাজনৈতিক বা নিরাপত্তাজনিত বিরোধ ছিল না। সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও এশিয়া কাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। তখন ট্রফি নিয়ে অনেক নাটক হয়েছিল, কিন্তু ম্যাচ শেষ পর্যন্ত হয়েছে, কারণ তখন রাজস্বের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তখন দেশপ্রেম কোথায় ছিল?”
তিনি আইসিসির (ICC) ভূমিকাকেও গুরুত্ব দিয়েছেন। হরভজনের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা যদি ন্যায়বিচার করে, তবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা, জরিমানা বা ভবিষ্যতে কোনো আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সুযোগ সীমিত হওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। তার ভাষ্য, “আইসিসি যদি ন্যায়বিচার করে, তবে পাকিস্তানকে বড় ধরনের মূল্য দিতে হতে পারে। এটি ভবিষ্যতে তাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অবস্থানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারতের বিপক্ষে এই ম্যাচ বয়কট কৌশলগতভাবে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ইমেজ ও ক্রিকেটীয় অবস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন সিদ্ধান্ত সাধারণত ক্রীড়াবিদ এবং ভক্তদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করে এবং আইসিসি নিয়ম অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ প্রদান করে। হরভজন সিংয়ের মন্তব্যও মূলত এই প্রেক্ষাপটকে সামনে এনেছে, যেখানে ক্রিকেটীয় প্রতিযোগিতা এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সঙ্গতি বা সংঘাতের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচগুলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বদা আলোচিত এবং অত্যন্ত জনপ্রিয়। দুই দেশের ভক্তদের প্রচণ্ড আগ্রহ এবং ম্যাচ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা সংক্রান্ত কারণে আইসিসি ও সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলোর জন্য এই ধরনের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। পাকিস্তানের বর্তমান সিদ্ধান্তটি কেবল বাংলাদেশকে সমর্থন দেখানোর উদ্যোগ নয়, বরং এতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা ও সমালোচকরা ভবিষ্যতে প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারেন।
এই পরিস্থিতিতে আইসিসির নীতি, ক্রিকেট বোর্ডের রণনীতি এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ আয়োজনের সিদ্ধান্তগুলোর ওপর নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানের বয়কটের ফলে জাতীয় দলের খেলোয়াড়, ক্রিকেট ভক্ত এবং টুর্নামেন্ট আয়োজকদের জন্য নানা ধরনের প্রভাব তৈরি হতে পারে, যা আগামী দিনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে রাজনৈতিক ও ক্রীড়াগত দ্বন্দ্বের দিকনির্দেশ নির্ধারণ করবে।


