আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বাংলাদেশ বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার প্রতি তার দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং জাতীয় অগ্রাধিকার অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ইউএনডিপির নির্বাহী বোর্ডের বার্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই অবস্থান তুলে ধরা হয়।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং বিচারিক সংস্কারে ইউএনডিপির ভূমিকার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ইউএনডিপি দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
রাষ্ট্রদূত চৌধুরী তার বক্তব্যে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাংলাদেশের জন্য ধারাবাহিক, পর্যাপ্ত এবং পূর্বানুমেয় আন্তর্জাতিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি। উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা ছাড়া এই উত্তরণ প্রক্রিয়া টেকসই করা কঠিন হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গও গুরুত্বের সঙ্গে উত্থাপিত হয়। রাষ্ট্রদূত চৌধুরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের কারণে ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো ইতোমধ্যে ব্যাপক ক্ষতি ও লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছে। এসব ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় নতুন, অতিরিক্ত এবং সহজপ্রাপ্য জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্বশীল ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানান।
এছাড়া বাংলাদেশ চলমান জাতিসংঘ সংস্কার উদ্যোগের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে। রাষ্ট্রদূত চৌধুরী বলেন, জাতিসংঘ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দক্ষ করে তুলতে সংস্কার প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি ইউএনডিপির বাস্তবায়ন ম্যান্ডেট ও দেশভিত্তিক কর্মসূচির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, মাঠপর্যায়ে বাস্তবমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইউএনডিপি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উন্নয়ন চাহিদা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ জোরদার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচারিক ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ইউএনডিপির সহায়তা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে এনেছে। এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন আরও সুসংহত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত চৌধুরী সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনডিপি প্রশাসক আলেকজান্ডার ডে ক্রো-কে অভিনন্দন জানান। তিনি তার নেতৃত্বে ইউএনডিপির কার্যক্রম আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন এবং এই নেতৃত্বের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইউএনডিপির নির্বাহী বোর্ডের বার্ষিক বৈঠকটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর উন্নয়ন অগ্রাধিকার, সংস্থাটির কর্মসূচি ও কৌশল নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অবস্থান উন্নয়ন সহযোগিতায় বহুপাক্ষিকতার গুরুত্ব এবং উন্নয়নশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর প্রয়োজনীয়তা আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


