বহিষ্কারের খবরে দিনাজপুরে বিএনপি নেতার মিষ্টি বিতরণ, দলে প্রতিক্রিয়া

বহিষ্কারের খবরে দিনাজপুরে বিএনপি নেতার মিষ্টি বিতরণ, দলে প্রতিক্রিয়া

রাজনীতি ডেস্ক

দিনাজপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ফুলবাড়ী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সাহাজুলকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বহিষ্কারের খবর প্রকাশের পর তিনি নেতা-কর্মীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেছেন—এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে দলীয় অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সাহাজুল স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে উপস্থিত থেকে মিষ্টি বিতরণ করছেন। ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই বিষয়টিকে দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

এর আগে একই দিন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সাহাজুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো নেতা বা কর্মী যদি ভিন্ন অবস্থান নেন কিংবা দলের মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করেন, সে ক্ষেত্রে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই প্রেক্ষাপটে দিনাজপুরের ওই নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে বিদ্রোহী এক প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ ওঠে মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সাহাজুলের বিরুদ্ধে। স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকা নিয়ে দলের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিষয়টি পর্যালোচনা করে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়।

তবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সাহাজুল সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, দলীয় প্রতীক ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার জন্য তাকে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে আহ্বান জানায়নি। সে কারণে তিনি নিজ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার দাবি, এতে সংগঠনবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডের বিষয় নেই।

শাহাদাত হোসেন সাহাজুল আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি দলের জন্য কাজ করে আসছেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপিকে সংগঠিত করতে ভূমিকা রেখেছেন। তার মতে, দলীয় সিদ্ধান্ত ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে সমন্বয়ের অভাব থেকেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বহিষ্কারের খবরের পর মিষ্টি বিতরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এটিকে ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করেন।

এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে বিএনপির ভেতরে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে দলগুলোর জন্য অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্রোহী প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রায়ই দেখা যায়, যা দলের জন্য সাংগঠনিক জটিলতা সৃষ্টি করে।

দিনাজপুর জেলা বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বহিষ্কারের ঘটনায় তারা বিব্রত। তাদের মতে, দলীয় সিদ্ধান্ত মানা প্রত্যেক নেতা-কর্মীর দায়িত্ব হলেও স্থানীয় বাস্তবতা ও কেন্দ্রীয় নির্দেশনার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দলের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বহিষ্কারের পরবর্তী পরিস্থিতি ও দলের অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া নিয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে নতুন কোনো বক্তব্য আসেনি। তবে আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনাকে দলীয় শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ