মক্কা অঞ্চলে ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পেলেন শায়খ ড. বান্দার বিন আব্দুল আজিজ বালিলাহ

মক্কা অঞ্চলে ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পেলেন শায়খ ড. বান্দার বিন আব্দুল আজিজ বালিলাহ

ধর্ম ডেস্ক

সৌদি আরবের মক্কা অঞ্চলে শরিয়াহভিত্তিক ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে শায়খ ড. বান্দার বিন আব্দুল আজিজ বালিলাহকে। দেশটির গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ ড. সালেহ বিন ফাওজান আল-ফাওজান আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে এই দায়িত্ব অর্পণ করেন। এর ফলে মক্কা অঞ্চলে ধর্মীয় প্রশ্ন ও জটিল বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ফতোয়া প্রদানের কাঠামোতে নতুন এক প্রশাসনিক বিন্যাস কার্যকর হলো।

নিয়োগের পর থেকে শায়খ ড. বান্দার বিন আব্দুল আজিজ বালিলাহ মক্কা অঞ্চলে উদ্ভূত ধর্মীয় ও শরিয়াহসংক্রান্ত বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ হিসেবে ফতোয়া প্রদান করবেন। মক্কা মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র হওয়ায় এখানকার ফতোয়ার প্রভাব ও গুরুত্ব সৌদি আরবের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিস্তৃত বলে বিবেচিত হয়। হজ ও ওমরাহসহ নানা ধর্মীয় ইবাদতকে কেন্দ্র করে প্রতিনিয়ত উদ্ভূত প্রশ্নের ক্ষেত্রে এখানকার ফতোয়া মুসলিম সমাজে দিকনির্দেশনা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

শায়খ ড. বান্দার বালিলাহ বর্তমানে মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে হারাম শরিফে ইমামতি ও খুতবা প্রদানের মাধ্যমে তিনি ধর্মীয় অঙ্গনে পরিচিতি লাভ করেন। তার শিক্ষাগত পটভূমি ও ফিকহি জ্ঞান তাকে এই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে। নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে তিনি নির্ধারিত প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় ফতোয়া প্রদান করবেন, যা গ্র্যান্ড মুফতির দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।

মক্কা অঞ্চলে ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব ঐতিহাসিকভাবে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতির সরাসরি তত্ত্বাবধানে অথবা তার মনোনীত আলেমদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে হারামাইন শরিফাইনকেন্দ্রিক নানা গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। অতীতে সৌদি আরবের সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি শায়খ আবদুল আজিজ বিন আবদুল্লাহ আল-শায়খ দীর্ঘ সময় ধরে এই ব্যবস্থার নেতৃত্ব দেন। তার সময়ে হজ, ওমরাহ, ইবাদত, সামাজিক ও সমসাময়িক নানা ইস্যুতে দেওয়া ফতোয়া মুসলিম উম্মাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

সৌদি আরবে গ্র্যান্ড মুফতির পদটি রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পদধারীরা কেবল জাতীয় পর্যায়ে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইসলামি আইন ও শরিয়াহসংক্রান্ত বিষয়ে প্রভাব রাখেন। বিশেষ করে মক্কা ও মদিনাকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তগুলো বিশ্বব্যাপী মুসলিমদের জন্য তাৎপর্য বহন করে। সে কারণে মক্কা অঞ্চলে ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব যিনি পালন করেন, তার ওপর যথেষ্ট দায়িত্ব ও জবাবদিহি বর্তায়।

নতুন এই নিয়োগের মাধ্যমে মক্কা অঞ্চলে ফতোয়া প্রদানের প্রক্রিয়া আরও সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। হজ ও ওমরাহ মৌসুমে বিভিন্ন দেশের মুসল্লিদের অংশগ্রহণ এবং আধুনিক সময়ের নতুন নতুন ধর্মীয় প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় ছিল। শায়খ ড. বান্দার বালিলাহের নিয়োগ সেই প্রয়োজন পূরণে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে মক্কা অঞ্চলে শরিয়াহভিত্তিক ফতোয়া প্রদানের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং গ্র্যান্ড মুফতির নেতৃত্বাধীন ধর্মীয় ব্যবস্থার অধীনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও কার্যকর হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

ধর্ম শীর্ষ সংবাদ