রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

 রাজনীতি ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে তিনি রাষ্ট্রপতিকে নিজের লেখা একটি বই এবং তার পিতার রচিত আত্মজীবনী উপহার দেন।

রাষ্ট্রপতির কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষাতে উভয়ের মধ্যে কুশল বিনিময় হয়। এ সময় আবদুল্লাহিল আমান আযমী তার লেখা ‘বিভীষিকাময় আয়নাঘর’ বইটি রাষ্ট্রপতিকে প্রদান করেন। একই সঙ্গে তিনি তার বাবা গোলাম আযমের লেখা আত্মজীবনী ‘জীবনে যা দেখলাম’-এর নয় খণ্ডের একটি সেট রাষ্ট্রপতির কাছে উপহার হিসেবে তুলে দেন। রাষ্ট্রপতি বইগুলো গ্রহণ করেন এবং সেগুলো সংক্ষেপে পর্যালোচনা করেন।

সাক্ষাৎটি ছিল সৌজন্যভিত্তিক এবং এতে কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক আলোচনা বা সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। রাষ্ট্রপতির দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারের অংশ হিসেবে নিয়মিত হয়ে থাকে, যেখানে বিশিষ্ট ব্যক্তি বা বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে থাকেন।

অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন সাবেক কর্মকর্তা। কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। সামরিক বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণের পর তিনি লেখালেখি ও গবেষণামূলক কাজে যুক্ত হন। তার লেখা ‘বিভীষিকাময় আয়নাঘর’ বইটি সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত হয় এবং এতে লেখকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের বিবরণ স্থান পেয়েছে বলে প্রকাশনা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে, ‘জীবনে যা দেখলাম’ শীর্ষক আত্মজীবনীটি গোলাম আযমের রচিত একটি ধারাবাহিক গ্রন্থ। নয় খণ্ডে প্রকাশিত এই আত্মজীবনীতে তার জীবনের বিভিন্ন পর্যায়, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। বইটি প্রথম প্রকাশের পর থেকে পাঠক ও গবেষকদের মধ্যে আলোচিত হয়ে আসছে। গোলাম আযম বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি পরিচিত নাম; তিনি দীর্ঘ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার জীবন ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও গবেষণা হয়েছে।

সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে আবদুল্লাহিল আমান আযমী পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সংক্ষিপ্ত পোস্ট দেন। ওই পোস্টে তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি উল্লেখ করেন এবং বই উপহার দেওয়ার তথ্য জানান। সেখানে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সাক্ষাতের সুযোগ পাওয়ার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ সাধারণত ব্যক্তিগত পরিচিতি, সামাজিক সৌহার্দ্য এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। বই উপহার দেওয়ার বিষয়টি লেখক ও রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে সাহিত্য ও চিন্তাচর্চার একটি প্রতীকী যোগাযোগ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। তবে এটি কোনো নীতিগত বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিভিন্ন পেশার মানুষ, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, লেখক ও গবেষকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে আসছেন। এসব সাক্ষাতে সাধারণত রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচার বজায় রেখে মতবিনিময় ও কুশলাদি আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ অব্যাহত থাকবে।

সামগ্রিকভাবে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমীর এই সাক্ষাৎ একটি আনুষ্ঠানিক সৌজন্য বৈঠক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে বই উপহার দেওয়ার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিনিময়ের একটি দিক সামনে এসেছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ