রাজনীতি ডেস্ক
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তার এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় যারা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন, তিনি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নওগাঁয় ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা জানান।
ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিন ধরে তার নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু বক্তব্য ও তথ্য ছড়ানো হয়, যা তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, তার এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব তথ্য প্রচার করেছে। তার ভাষায়, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত একজনকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, যারা জনগণের ভোটে গঠিত সরকার চায় না এবং দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল রাখতে আগ্রহী, তারাই এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর সঙ্গে যুক্ত।
নওগাঁর জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াত আমির জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য প্রচারের মাধ্যমে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করা নতুন কোনো বিষয় নয়। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তথ্য যাচাই না করে প্রচার করলে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং রাজনৈতিক পরিবেশ আরও জটিল হয়ে ওঠে। এ প্রেক্ষাপটে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান।
একই সভায় ডা. শফিকুর রহমান নওগাঁ জেলা ও উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তার দল রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে নওগাঁ শহরের প্রধান সড়কগুলো চার লেনে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি একটি মানসম্মত মেডিকেল কলেজ ও চিকিৎসা অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। তার মতে, উত্তরবঙ্গকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, নওগাঁসহ উত্তরাঞ্চল আম ও লিচুর জন্য সুপরিচিত। এসব ফলের প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির ব্যবস্থা নেওয়া হলে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিত শিল্পায়নের মাধ্যমে এ অঞ্চলকে ‘কৃষি শিল্পের রাজধানী’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।
অতীতের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বড় বড় প্রকল্পের নামে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ বহুবার উঠেছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্পে ব্যয় হওয়া অর্থ জনগণের, এবং সে অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে দায়িত্ব পেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিষয়েও তিনি বক্তব্য দেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছাত্রীদের জন্য মাস্টার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনা খরচে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, তরুণ সমাজ শুধু ভাতা নয়, টেকসই কর্মসংস্থান চায়। সে লক্ষ্যে উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক নেতাদের নামে ভুয়া বক্তব্য ও তথ্য ছড়ানোর ঘটনা বেড়েছে। এ ধরনের ঘটনার ফলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়তে পারে। ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য এই প্রেক্ষাপটেই এসেছে বলে মনে করছেন তারা। একই সঙ্গে নির্বাচনী সময় ঘনিয়ে এলে রাজনৈতিক দলগুলোর উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা স্বাভাবিক বলেও মত বিশ্লেষকদের।
নওগাঁর জনসভায় দেওয়া বক্তব্যের মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর আমির একদিকে যেমন ডিজিটাল নিরাপত্তা ও তথ্যের সত্যতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন, অন্যদিকে তেমনি উন্নয়ন, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিষয়ে তার দলের অবস্থানও তুলে ধরেছেন।


