ওয়াশিংটন ও দিল্লির প্রভাবমুক্ত রাজনীতির দাবি ইসলামী আন্দোলনের আমিরের

ওয়াশিংটন ও দিল্লির প্রভাবমুক্ত রাজনীতির দাবি ইসলামী আন্দোলনের আমিরের

রাজনীতি ডেস্ক

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ পরিচালিত হবে ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার আদায়ের ভিত্তিতে, কোনো বিদেশি শক্তির নির্দেশনায় নয়। তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান শাসনব্যবস্থা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে এবং এ প্রেক্ষাপটে ইসলামী আন্দোলন বিকল্প রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে মাঠে রয়েছে।

বুধবার রাতে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌরসভার দক্ষিণ পাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অনুষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যে সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিদেশি প্রভাবের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাঁর মতে, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জনগণের মতামত ও স্বার্থকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, আগামী দিনের বাংলাদেশ এমন একটি শাসনব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হবে, যেখানে ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও অধিকার প্রতিষ্ঠা প্রধান বিবেচ্য হবে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলন ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক ন্যায়বিচার ও নৈতিক শাসনের ধারণা নিয়ে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় গত কয়েক দশকে নানা সংকট তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ সময়ে অন্যায়, অপরাধ, গুম, খুন, অনিয়ম ও দুর্নীতির মতো সমস্যার কার্যকর সমাধান হয়নি।

জনসভায় তিনি রাজনৈতিক জোট প্রসঙ্গে বলেন, ইসলামী আন্দোলন আদর্শিক কারণে নির্দিষ্ট কিছু দলের সঙ্গে জোটে যেতে আগ্রহী নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামি শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার প্রশ্নে মতপার্থক্যের কারণে দলটি এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের সামনে দলীয় প্রতীক ‘হাতপাখা’ নিয়ে ইসলামী আন্দোলন তাদের কর্মসূচি ও লক্ষ্য তুলে ধরছে।

রেজাউল করীম বলেন, ইসলামী আন্দোলনের রাজনৈতিক অবস্থান মূলত নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ওপর নির্ভরশীল। তাঁর দাবি, বিদ্যমান রাজনৈতিক ধারায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসায় জনগণের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক বিকল্পের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, দলটি সেই প্রত্যাশার প্রতিনিধিত্ব করতে চায়।

বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ধরে প্রচলিত ব্যবস্থার মধ্যেই সরকার পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু সাধারণ মানুষের জীবনমান, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। তাঁর মতে, এই বাস্তবতায় রাজনৈতিক সংস্কার ও মূল্যবোধভিত্তিক রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।

জনসভায় স্থানীয় ইসলামী আন্দোলনের নেতারা তাঁদের বক্তব্যে দলের নির্বাচনি কর্মসূচি, সামাজিক ন্যায়বিচার, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, আসন্ন নির্বাচনে জনগণের সমর্থন নিয়ে ইসলামী আন্দোলন একটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে চায়।

সভায় উপস্থিত সমর্থকেরা বক্তৃতা শোনেন এবং দলীয় কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দেশজুড়ে জনসভা ও প্রচারণা জোরদার করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় অনুষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলনের জনসভা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ