রাজনীতি ডেস্ক
খুলনা ও ভোলায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নারী কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ। এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা জানান, খুলনা ও ভোলা জেলার পৃথক দুটি ঘটনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নারী কর্মীরা হামলার শিকার হয়েছেন বলে তাঁদের সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ রয়েছে। বক্তারা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহকারী দপ্তর সম্পাদক বরকত উল্লাহ লতিফ বলেন, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে খুলনা-১ আসনে তাঁদের মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় দাকোপ উপজেলার লক্ষ্মীখোলা গ্রামে নারী কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্থানীয় কয়েকজন জামায়াত নেতার নেতৃত্বে ওই হামলা সংঘটিত হয় বলে তাঁদের সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।
বরকত উল্লাহ লতিফ আরও বলেন, অভিযোগ অনুযায়ী হামলার সময় ইসলামী আন্দোলনের মহিলা ইউনিটের প্রধানসহ অন্তত ১১ থেকে ১২ জন নারী কর্মীকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয় এবং তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে। তিনি এসব অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেন।
সমাবেশে বক্তৃতায় তিনি ভোলার একটি পৃথক ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গত ২৮ জানুয়ারি ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীর পরিবারের এক সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায়ও জামায়াতের স্থানীয় কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তাঁদের সংগঠনের পক্ষ থেকে করা হয়। তিনি বলেন, এসব অভিযোগের বিষয়ে আগে প্রতিবাদ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো প্রতিকার দেখা যায়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।
সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী যুব আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি মুফতি শওকত ওসমান বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি ঘটনায় রাজনৈতিক সহনশীলতার সীমা অতিক্রম করা হয়েছে বলে তাঁদের মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের ওপর হামলার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এ ধরনের অভিযোগ গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নেতৃত্বের দায়িত্ব হচ্ছে তাঁদের কর্মীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং আইন ও শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকতে উদ্বুদ্ধ করা। এসব অভিযোগের পুনরাবৃত্তি রোধে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর উচিত নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা।
সমাবেশে ইসলামী যুব আন্দোলন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মাদ নেসার উদ্দিন হুজাইফের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি হাফেজ শাহাদাত হোসেন এবং ইসলামী যুব আন্দোলন ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি হাফেজ মো. মুস্তাইজ বিল্লাহ। বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য যে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে একাধিক দলের মধ্যে উত্তেজনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব পরিস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সহাবস্থান বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নারী কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগগুলোর যথাযথ তদন্ত হলে রাজনৈতিক পরিবেশে আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তা ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


