জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা না মানলে কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের হুঁশিয়ারি

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালা না মানলে কলেজের অধিভুক্তি বাতিলের হুঁশিয়ারি

শিক্ষা ডেস্ক
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত শর্ত ও বিধিমালা যারা মানবে না, তাদের কলেজের অধিভুক্তি বাতিল করা হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপত্তি বা অজুহাত গ্রহণ করা হবে না। উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিত করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এ ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেবে বলে তিনি জানান।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) হবিগঞ্জ সার্কিট হাউসে জেলার বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক এবং কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ভাইস-চ্যান্সেলর। সভায় তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, একাডেমিক মান এবং পরিচালন কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন।

ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত অনেক কলেজ এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শর্ত ও বিধিমালা পুরোপুরি অনুসরণ করছে না। শিক্ষক নিয়োগ, পাঠদান কার্যক্রম, অবকাঠামো, পরিচালনা পরিষদের কার্যক্রম ও শিক্ষার্থী সেবাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এসব অনিয়ম উচ্চশিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের পথে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে নির্ধারিত নিয়ম মানার কোনো বিকল্প নেই।

সভায় জানানো হয়, চলতি সপ্তাহের মঙ্গল ও বুধবার ভাইস-চ্যান্সেলর হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল, নবীগঞ্জ ও বানিয়াচং উপজেলার মোট আটটি কলেজ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে তিনি সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর শ্রেণিকক্ষ, পাঠদান পদ্ধতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং অবকাঠামোগত অবস্থা সরেজমিনে দেখেন। একই সঙ্গে কলেজগুলোর অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে শিক্ষার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

মতবিনিময় সভায় ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, অনেক ক্ষেত্রে কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান, শিল্পকারখানা ও চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানের চাহিদা বিবেচনা না করে নিজেদের পছন্দের বিষয়ে অধিভুক্তির আবেদন করে থাকে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় এবং পরবর্তীতে প্রতিযোগিতামূলক শ্রমবাজারে পিছিয়ে পড়ে। তিনি বলেন, বিষয় নির্বাচন ও অধিভুক্তির ক্ষেত্রে বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনা করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসায় প্রশাসন, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলসহ বিভিন্ন পেশাভিত্তিক বিষয়ে দক্ষ জনবলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তবে এসব বিষয়ে অধিভুক্তির আবেদন তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে। ভবিষ্যতের চাহিদা মাথায় রেখে সময়োপযোগী ও নতুন নতুন বিষয়ে অধিভুক্তির আবেদন করার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনেক কলেজে পরিচালনা পরিষদের নিয়মিত সভা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, নিয়মিত সভা না হলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সমস্যা চিহ্নিত করা সম্ভব হয় না। ফলে সমস্যার কার্যকর সমাধানও বিলম্বিত হয়। দীর্ঘদিন এ ধরনের অব্যবস্থাপনা চলতে থাকলে সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। এতে শিক্ষাঙ্গনে হতাশা ও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, পরিচালনা পরিষদের নিয়মিত সভার মাধ্যমে কলেজের সার্বিক উন্নয়ন, একাডেমিক মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত পরিকল্পনা এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে পরিচালনা পরিষদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সভা শেষে ভাইস-চ্যান্সেলর আশ্বাস দিয়ে বলেন, উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন, কলেজগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কল্যাণে গৃহীত যেকোনো বাস্তবসম্মত উদ্যোগ বাস্তবায়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর পাশে থাকবে। তবে শর্ত ও বিধিমালা মানার বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি পুনরায় উল্লেখ করেন।

শিক্ষা শীর্ষ সংবাদ