জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এ গুরুতর আহত ৪৭৪ জন ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পুনর্নির্ধারিত

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এ গুরুতর আহত ৪৭৪ জন ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পুনর্নির্ধারিত

 

বাংলাদেশ ডেস্ক

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এ গুরুতর আহত ৪৭৪ জনের নাম ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পুনর্নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে। মন্ত্রণালয়ের গেজেট অধিশাখার এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন অধ্যাদেশ, ২০২৫ (অধ্যাদেশ নং ৩০, ২০২৫) এর ১১ (৪) ধারা অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এ আহত জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে গেজেট প্রকাশ করা হলো। সংশ্লিষ্টদের শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়েছে ‘খ’ (গুরুতর আহত) হিসেবে।’

গেজেটে থাকা তালিকায় ৪৭৪ জনের নামসহ তাদের পুনর্নির্ধারিত শ্রেণি উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত। ওই সময়কার গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা গুরুতর আহত হলে তাদের কল্যাণ এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুনর্নির্ধারিত ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে স্বীকৃতি পেলে, সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন সরকারি সুবিধা ও সহায়তা গ্রহণের জন্য যোগ্য হবেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যোদ্ধাদের সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের অবদান স্বীকৃত করা সরকারের লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা গেজেট প্রকাশের পর সরকারি দফতরে আবেদনপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের পুনর্নির্ধারিত ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে ইতিহাস সংরক্ষণ এবং আহত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে আরও সুসংগঠিত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। এ পদক্ষেপের ফলে আহতদের পরিবারের আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং তাদের জীবনমান উন্নত হবে।

এছাড়া, মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুতর আহত হয়েছেন, তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সরকার ইতিমধ্যেই অর্থায়ন এবং বিশেষ সহায়তা প্রদান করছে। গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে এই কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

জুলাই যোদ্ধাদের পুনর্নির্ধারণ ও স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া সরকারের সামাজিক নীতি ও ইতিহাস সংরক্ষণ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এটি শুধুমাত্র আহত ব্যক্তিদের কল্যাণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং জাতীয় ইতিহাসে তাদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি প্রদানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ