ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা আগামীকাল

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা আগামীকাল

রাজনীতি ডেস্ক

আগামীকাল শুক্রবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দলের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করবেন। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, বিকেল সাড়ে ৩টায় হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে এই ইশতেহার প্রকাশ করা হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং পরিচালনা করবেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। এবারের নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারেক রহমান, যা তার প্রথম নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা হিসেবে বিবেচিত হবে।

ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যায়, পঞ্চম থেকে নবম সংসদ নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব বেগম খালেদা জিয়ার অধীনে পরিচালিত হয়েছে। প্রতিটি নির্বাচনী ইশতেহারও সেই সময়ের চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি ঘোষণা করেছেন। তবে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অংশ হওয়া সত্ত্বেও চেয়ারপার্সন কারাবন্দি থাকার কারণে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশানের লেকশোরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। দশম ও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ভোট বয়কট করেছিল।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ‘বিএনপি গণমানুষের দল এবং তৃণমূলের ক্ষমতায়নের দল। চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় দলটি সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কাজ করেছে। প্রাথমিকভাবে ৩১ দফা নিয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। জনসম্পৃক্ততার আলোকে দল, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতের ওপর ভিত্তি করে ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ভিশন ও রূপকল্পকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা ও চাহিদাও সমানভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবভিত্তিক ও টেকসই হওয়ায় জনগণের সমস্যা সমাধান এবং ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, ‘চেয়ারপার্সন তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের সময় তিনি জানিয়ে ছিলেন, “হি হ্যাজ এ প্ল্যান।” এই পরিকল্পনা প্রতিটি নাগরিকের ক্ষমতায়ন, স্বাধীনতা, স্বনির্ভরতা, নিরাপত্তা ও সার্বিক সুরক্ষার জন্য প্রণীত। আমাদের লক্ষ্য একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে। ইশতেহারের প্রতিটি পর্যায়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানা, স্বাধীনতা, অধিকার, নিরাপত্তা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন প্রতিফলিত হবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের জনগণ তার পরিবারসহ মানসম্মত জীবন যাপন করতে পারবে। প্রতিটি সেক্টরে সুনির্দিষ্ট ও বিস্তৃত পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ