ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তথ্য অপপ্রচারের মোকাবিলা প্রধান চ্যালেঞ্জ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তথ্য অপপ্রচারের মোকাবিলা প্রধান চ্যালেঞ্জ

 

রাজনীতি ডেস্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে তথ্যের অপপ্রচার বা মিথ্যা তথ্য ছড়ানো নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধি মূলত নির্বাচনের প্রস্তুতি, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং কমিশনের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। আখতার আহমেদ জানান, কমিশন ইতোমধ্যেই নির্বাচনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে তথ্যের অপপ্রচার নির্ধারণ করেছে এবং সেটি মোকাবিলায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে।

সিনিয়র সচিব বলেন, ‘আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং তাদের সহযোগিতা চেয়েছি। ইন্টারনেটের গতিকে সীমিত করার পরিবর্তে আমরা চাই, বিদ্রুপাত্মক ও আক্রমণাত্মক কন্টেন্ট বা অপপ্রচার নির্ধারিতভাবে সরানো হোক।’ তিনি উল্লেখ করেন, কমিশন ইতোমধ্যেই মেসেজিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেছে, যাতে নির্বাচনী সময়ে ভুল বা ভ্রান্ত তথ্য দ্রুত শনাক্ত ও বন্ধ করা যায়।

নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রস্তুতি সম্পর্কে আখতার আহমেদ বলেন, ‘ইইউ প্রতিনিধিদল আমাদের ডেপ্লয়মেন্ট পরিকল্পনা জানতে চেয়েছে। নির্বাচনের জন্য সাত দিন সেনাবাহিনী এবং আট দিন আনসার সদস্যরা মাঠে থাকবেন। পুলিশ ও সেনাবাহিনী ইতোমধ্যেই তাদের স্বাভাবিক দায়িত্ব পালন করছে, তবে নির্বাচনের বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় তারা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।’

তিনি রাজনৈতিক দলের অভিযোগ মোকাবিলা সম্পর্কেও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোকে আমরা অতীতেও জানিয়েছি এবং এখনও বলছি, তারা তাদের অভিযোগ স্থানীয় নির্বাচনী তদন্ত ও বিচার কমিটির কাছে জানান। এছাড়া সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে কমিশনের সঙ্গে সরাসরি শেয়ার করতে হবে। আমরা আইনগত কাঠামোর মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বজায় থাকে।’

নির্বাচনী প্রচারণার সময়সীমা সম্পর্কেও তিনি অবহিত করেন। আখতার আহমেদ বলেন, ‘ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সকল ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।’ তিনি নিশ্চিত করেন, এবারের নির্বাচনে বিএনসিসি সদস্যরাও কমিশনকে সহায়তা প্রদান করবেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তথ্য অপপ্রচার নিয়ন্ত্রণে রাখা নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং জনবিশ্বাস নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ। ইসি সচিবের কথায়, কমিশন ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্ম এবং নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়াচ্ছে যাতে ভোট প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়। এছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর ডেপ্লয়মেন্ট, নির্বাচনী প্রচারণার সীমাবদ্ধতা এবং অভিযোগের সঠিক অনুসন্ধান নির্বাচনকে আইনানুগ ও নিয়ন্ত্রিত পরিসরে রাখার একটি কার্যকরী ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এবারের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে অপতথ্য তথ্য ও মিথ্যা খবরের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং তা প্রতিহত করার কার্যক্রম ভোটারদের তথ্যগত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনের সার্বিক গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ