দেবীদ্বার উপজেলার নির্বাচনী সংঘর্ষে অভিযোগ ও ব্যানার বিতর্ক

দেবীদ্বার উপজেলার নির্বাচনী সংঘর্ষে অভিযোগ ও ব্যানার বিতর্ক

 

রাজনীতি ডেস্ক

কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ ও গণ অধিকার পরিষদ (জিওপি) প্রার্থী মো. আ. জসীম উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে নির্বাচনী ব্যানার এবং প্রচার সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি সংঘর্ষ ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত সোয়া ৯টায় দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়ন নির্বাচন কার্যালয়ে জিওপি প্রার্থী জসীম উদ্দিনের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ সাইফুল ইসলামসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া, জিওপি প্রার্থী জসীম উদ্দিনের প্রধান নির্বাচন প্রস্তাবকারী মো. রাসেল হোসেন বেগও বক্তব্য রাখেন।

রাসেল হোসেন বেগ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার সময় তাদের সমর্থকরা বিভিন্নভাবে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন, জসীম উদ্দিনের নিজ গ্রাম এলাহাবাদে এলাহাবাদ হাই স্কুলের দক্ষিণ পাশে ট্রাক প্রতীকের একটি ব্যানার টানানো হয়েছিল। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর সমর্থকরা ওই ব্যানার তুলে সেখানে শাপলা প্রতীকের একটি বিলবোর্ড স্থাপন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ব্যানারটি উঠানোর সময় তাদের প্রচার মাইকযুক্ত গাড়ির সামনে ঘটনাটি ঘটে এবং প্রতিবাদ করলে হুমকি প্রদানের মাধ্যমে সরে যেতে বলা হয়। এছাড়া, এলাহাবাদ থেকে জাফরগঞ্জ সড়কের পাঁচটি ব্যানারও তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মো. রাসেল হোসেন বেগ আরও অভিযোগ করেন, হাসনাত আব্দুল্লাহর নিজ ইউনিয়নের খাইয়ার গ্রামে একটি পলেস্টার কাপড়ের ব্যানার পোড়ানো হয়েছে। ব্যানারটি আগুনে ভস্মীভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ভিডিও করা হয়। তবে যারা ব্যানার পোড়াচ্ছিল, তাদের ভিডিও ধারণ করা হয়নি। তিনি বলছেন, এই ঘটনা পরিকল্পিতভাবে পরিচালিত হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। একই কৌশলে হারসসার গ্রামেও জাতীয় নাগরিক পার্টির একটি ব্যানার পোড়ানো হয়েছে এবং ভিডিও করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, ব্যানার পোড়ানোর ঘটনার প্রেক্ষিতে হাসনাত আব্দুল্লাহর ইউনিয়নসহ চারটি ইউনিয়নের বিএনপি ও জিওপির মোট ৪৭ জন নেতাকর্মীর নামের তালিকা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে, যা ব্যবহার করে তাদের হয়রানি করা হতে পারে। ছাত্র অধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ সাইফুল ইসলাম বলেন, মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে নেতাকর্মীদের নামের তালিকা ব্যবহার করে পুলিশ দিয়ে বাড়ি বাড়ি তল্লাশির মাধ্যমে হয়রানি চালানো হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, কেউ যেন নিজস্ব ব্যানারে আগুন ধরিয়ে জিওপি ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় জড়াতে না পারে। পাশাপাশি পুলিশ ও সেনা সদস্যদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি তল্লাশির নামে হয়রানি না করার জন্য প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর ফলে, আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দেবীদ্বার উপজেলায় সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা এবং অভিযোগ-প্রতিঅভিযোগের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা এবং সম্ভাব্য পদক্ষেপ এই ঘটনায় ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ