রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সামনে রেখে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময়সূচি নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সর্বোচ্চ তিন দিন সময় লাগতে পারে এবং সম্ভাব্যভাবে আগামী ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ফলাফল ঘোষণার পরপরই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এরপরই সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।
শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তর একটি সংবিধানস্বীকৃত ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। নির্বাচন কমিশন থেকে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হয়। এরপর সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান এবং প্রধানমন্ত্রী নিয়োগসহ সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক ধাপগুলো সম্পন্ন করা হয়। এসব ধাপ সুষ্ঠু ও দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিলে এই পুরো প্রক্রিয়া তিন দিনের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ১৫, ১৬ কিংবা ১৭-১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন সরকার দায়িত্ব নিতে পারে। তবে চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের ফলাফল ঘোষণার সময়সূচি এবং সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতার ওপর।
দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার নজির নতুন নয়। অতীতেও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে স্বল্প সময়ের মধ্যেই নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তরের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং দৈনন্দিন রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম সচল রাখাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান দায়িত্ব। একই সঙ্গে নবনির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় যাতে কোনো প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি না হয়, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তর দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা ও সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠন হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে আসে এবং রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। এছাড়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও এটি একটি ইতিবাচক বার্তা দেয় যে, নির্বাচন-পরবর্তী প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক প্রস্তুতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক সমন্বয় নিয়েও সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন ওঠে। প্রেস সচিব জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার পরবর্তী সময়েও নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
সার্বিকভাবে, সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এতে করে নতুন সরকার দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণ করে রাষ্ট্র পরিচালনার কার্যক্রম শুরু করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।


