রাজনীতি ডেস্ক
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরী রাঙ্গুনিয়ার নতুন প্রজন্মের তরুণদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়েছেন। এ সময় বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি রাজনীতি, উন্নয়ন, শিক্ষা, পরিবেশ ও ধর্মীয় সেবাখাত সংশ্লিষ্ট একাধিক বিষয়ে নিজের অবস্থান ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। আলোচনার একপর্যায়ে তিনি বলেন, তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হোন বা না হোন, আগামী দিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন তারেক রহমান—এমনটাই তিনি মনে করেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত প্রায় ৮টার দিকে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কাদেরনগরে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর নিজস্ব অডিটোরিয়ামে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা, সামাজিক সংগঠনের কর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, কনটেন্ট নির্মাতা ও ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময়ের শুরুতে হুম্মাম কাদের চৌধুরী তরুণদের ভূমিকা ও অংশগ্রহণের বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, তরুণরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা নির্ধারণে তাদের মতামত ও পরামর্শ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যে তিনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলন ও সামাজিক পরিবর্তনে তরুণদের অংশগ্রহণের কথাও উল্লেখ করেন।
স্থানীয় উন্নয়ন প্রসঙ্গে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় উন্নয়ন পরিকল্পনায় ভারসাম্য ও প্রয়োজনভিত্তিক সিদ্ধান্ত জরুরি। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, কোথাও কোথাও ব্যক্তিকেন্দ্রিক বা সীমিত এলাকার সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হয়েছে, অথচ অন্য এলাকায় মৌলিক সড়ক অবকাঠামোর অভাবে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি এমন উন্নয়ন পদ্ধতির বিপক্ষে এবং পুরো রাঙ্গুনিয়ার সামগ্রিক ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চান।
পরিবেশ ও প্রাণী কল্যাণ বিষয়ে নিজের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন বিএনপির এই প্রার্থী। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই প্রাণীদের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে তিনি রাঙ্গুনিয়ায় একটি ইকোপার্ক স্থাপনের পরিকল্পনার কথা বলেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার বর্তমান কাঠামো ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন এবং ভবিষ্যতে এটিকে আধুনিক সাফারি পার্কে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
শিক্ষা খাত নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বেও আলোচনা হয়। রাঙামাটি সরকারি কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী সায়মা বিনতে সৈয়দের এক প্রশ্নের জবাবে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুধু আনুষ্ঠানিক বা বার্ষিক সফরে সীমাবদ্ধ থাকতে চান না। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সরাসরি মতবিনিময়ের মাধ্যমে সমস্যাগুলো জানার চেষ্টা করবেন।
ধর্মীয় সেবাখাতের সঙ্গে যুক্ত ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বেতন-ভাতা সংক্রান্ত প্রশ্নও উঠে আসে। মাদ্রাসার ছাত্র হামিদুল ইসলাম রাকিব এ বিষয়ে জানতে চাইলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বর্তমান বেতন-ভাতা দিয়ে পরিবার পরিচালনা করা কষ্টকর হয়ে পড়ে। এ প্রসঙ্গে তিনি তারেক রহমানের পূর্বঘোষিত অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, ভবিষ্যতে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে এবং এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি ভূমিকা রাখতে চান।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন সামাজিক ও স্থানীয় সমস্যা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পান। হুম্মাম কাদের চৌধুরী তাৎক্ষণিকভাবে এসব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং নির্বাচিত হলে সম্ভাব্য উন্নয়ন পরিকল্পনার দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। পুরো আয়োজনটি ছিল প্রশ্নোত্তরভিত্তিক, যেখানে তরুণদের অংশগ্রহণ ও মতামত প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়।


