রাজধানী ডেস্ক
নবম জাতীয় পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়ন, গেজেট প্রকাশ এবং চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে তা কার্যকর করার দাবিতে রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সরকারি কর্মচারীরা। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ঢাকায় বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন শেষে তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন।
সরকারি কর্মচারীরা সকাল ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমবেত হয়ে কর্মসূচি শুরু করেন। পরে থালা-বাটি হাতে প্রতীকী মিছিল নিয়ে তারা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন এলাকায় অগ্রসর হন। কর্মসূচিটি ‘সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে পালিত হয়।
কর্মসূচি চলাকালে শাহবাগ এলাকায় পৌঁছালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের অগ্রযাত্রায় বাধা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। তবে বাধা উপেক্ষা করে মিছিলটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে গিয়ে প্রথম দফায় অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে যমুনা সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা।
ঘটনাস্থলে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। এ সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, নবম পে স্কেল বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ হয়নি। ফলে কর্মচারীদের বেতন কাঠামো ও ভাতা সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তারা বলছেন, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নতুন পে স্কেল দ্রুত কার্যকর করা প্রয়োজন।
এর আগে একই দাবিতে সরকারি কর্মচারীরা টানা তিন দিন প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করেন। এরপর বৃহস্পতিবার চার ঘণ্টার কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করা হয়। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী শুক্রবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিল বের করা হয়।
সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তারা বলেন, কর্মচারীদের ন্যায্য দাবির বিষয়ে সরকারকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে প্রশাসনিক কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি অচলাবস্থা সৃষ্টি না হয়।
প্রসঙ্গত, জাতীয় পে স্কেল সাধারণত সরকারি কর্মচারীদের বেতন, গ্রেড ও ভাতা কাঠামো নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের সরকারি দপ্তরগুলোর বেতন কাঠামোয় পরিবর্তন আসে। এ কারণে পে স্কেল বাস্তবায়ন বিলম্বিত হলে কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, চলমান আন্দোলনের ফলে সরকারি দপ্তরগুলোতে সেবা কার্যক্রমে সাময়িক ব্যাঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। তবে আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন, তারা কর্মসূচি পালনের ক্ষেত্রেও জরুরি সেবা কার্যক্রম সচল রাখার বিষয়ে সতর্ক রয়েছেন।
এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দাবি-দাওয়া পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে প্রশাসন, যাতে জনদুর্ভোগ বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে।
রাজধানীতে কর্মসূচি চলমান থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল ও যানবাহন ব্যবস্থাপনায় সাময়িক চাপ সৃষ্টি হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে।


