রাজনীতি ডেস্ক
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীল ও পেশাদার ভূমিকা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. নিজামূল কবীর। তিনি বলেছেন, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ হিসেবে কাজ করে এবং রাষ্ট্রের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ ভূমিকা দেশকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিতে সহায়তা করে। নির্বাচন ও গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রক্রিয়ায় গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্ব আরও বেড়ে যায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সোমবার সিলেট আঞ্চলিক তথ্য অফিসে তথ্য অধিদফতরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা। কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন।
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা বলেন, নির্বাচন ও গণভোট একটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই প্রক্রিয়াকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গণমাধ্যম জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে পারে এবং ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি জানান, তথ্য অধিদফতর গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বিষয়ে বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব কনটেন্টের মধ্যে রয়েছে টেলিভিশন বিজ্ঞাপনচিত্র, থিম সং, পোস্টাল ব্যালট সম্পর্কিত তথ্য এবং দেশের আটটি বিভাগের জন্য আটটি আঞ্চলিক ভাষায় প্রস্তুত করা সচেতনতামূলক গান। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ভোটারদের কাছে নির্বাচন ও গণভোটসংক্রান্ত তথ্য সহজ ও বোধগম্যভাবে তুলে ধরা।
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা আরও বলেন, শুধু প্রচারণামূলক কনটেন্ট নয়, তথ্য অধিদফতর গণমাধ্যমকর্মীদের দক্ষতা ও সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন বিভাগে সেমিনার, কর্মশালা ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করছে। এসব আয়োজনের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সংবাদ পরিবেশনে পেশাগত মান বজায় রাখা, আচরণবিধি সম্পর্কে অবহিত হওয়া এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, তরুণদের মধ্যে গণভোট নিয়ে আগ্রহ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই আগ্রহকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে গ্রামাঞ্চলের সাধারণ জনগণ ও নারীদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রধান তথ্য কর্মকর্তা বলেন, গণভোট কী, কেন গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং কীভাবে ভোট দিতে হবে—এসব বিষয়ে জনগণের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। এই কৌতূহল দূর করতে এবং সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সুবিধা, প্রক্রিয়া এবং আচরণবিধি সহজ ভাষায় জনগণের কাছে তুলে ধরতে গণমাধ্যমকর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
কর্মশালায় উপপ্রধান তথ্য অফিসার হাছিনা আক্তারের সভাপতিত্বে অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ইয়াকুব আলী, উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা নাসরীন জাহান লিপি এবং মোল্লা আহমদ কুতুবুদ-দ্বীন বিভিন্ন বিষয়ে পৃথক সেশন পরিচালনা করেন। সেশনগুলোতে নির্বাচন ও গণভোটসংক্রান্ত তথ্য, গণমাধ্যমের দায়িত্ব এবং নির্বাচনকালীন আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিকরা তাদের মতামত তুলে ধরেন এবং নির্বাচনসংক্রান্ত সংবাদ কাভারেজে তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানান। তারা নির্বাচনকালে সঠিক তথ্য সংগ্রহ, যাচাই ও উপস্থাপনের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং গণমাধ্যমের পেশাগত মান বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।


