ইশারা ভাষার ব্যবহার সম্প্রসারণে মূলধারায় আসবে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীরা: শারমীন এস মুরশিদ

ইশারা ভাষার ব্যবহার সম্প্রসারণে মূলধারায় আসবে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধীরা: শারমীন এস মুরশিদ


বাংলাদেশ ডেস্ক
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং গণমাধ্যমে ইশারা ভাষার ব্যবহার বাড়ানো গেলে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ। তিনি বলেছেন, ইশারা ভাষাভাষী নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের দায়িত্ব কোনো দয়া বা অনুগ্রহ নয়; এটি তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্ন।

শনিবার রাজধানীতে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে ‘বাংলা ইশারা ভাষা দিবস–২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাষাগত অধিকার, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইশারা ভাষার ব্যবহার সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে ইশারা ভাষা একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম, যা ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ভাষা হিসেবে বিবেচিত। তিনি উল্লেখ করেন, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। ইশারা ভাষার প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহার নিশ্চিত না হলে এই জনগোষ্ঠী শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্য ও ন্যায়বিচারসহ মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

তিনি আরও বলেন, ইশারা ভাষা শুধু তথ্য আদান-প্রদানের একটি মাধ্যম নয়; এটি বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী মানুষের ভাষাগত পরিচয়, আত্মমর্যাদা ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ভিত্তি। ভাষার মাধ্যমেই মানুষ নিজের ভাবনা, অনুভূতি ও সম্ভাবনাকে প্রকাশ করে। ফলে ইশারা ভাষাকে উপেক্ষা করা মানে একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূলধারা থেকে দূরে সরিয়ে রাখা। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ ও সেবা প্রদানে ইশারা ভাষার অন্তর্ভুক্তি জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম। তিনি বলেন, বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে এবং ইশারা ভাষার প্রসারে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

আলোচনা সভায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন সরকার বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় বিদ্যমান আইন ও নীতিমালার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ইশারা ভাষা বিষয়ে সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের পরিচালক সোনামণি চাকমা। তিনি বলেন, ইশারা ভাষা দিবস উদযাপনের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা এবং বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সক্ষমতা তুলে ধরা সম্ভব। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচি ইশারা ভাষার গুরুত্ব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আলোচনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সোসাইটি অব দ্য ডেপ অ্যান্ড সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ইউজার্সের গবেষক ও সদস্য মো. আব্দুল্লাহ। প্রবন্ধে তিনি আন্তর্জাতিক পরিসরে ইশারা ভাষার স্বীকৃতি, গবেষণা ও ব্যবহারিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইশারা ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী এ ভাষার ব্যবহার ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। কর্মসূচির শেষে উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ মেধাবী বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করেন। আয়োজকেরা জানান, ইশারা ভাষার ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার বিষয়ে নীতিগত অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ