গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার : প্রেসসচিব

গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার : প্রেসসচিব

রাজনীতি ডেস্ক

ইনকিলাব মঞ্চের একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনার পর কিছু গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রকাশিত ভুল তথ্য পরিস্থিতিকে অকারণে উত্তপ্ত করে তুলতে পারে এবং জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের গণমাধ্যম অভূতপূর্ব স্বাধীনতা ভোগ করলেও মৌলিক সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালনে বারবার ঘাটতির উদাহরণ দেখা যাচ্ছে। সরকারের প্রত্যাশা, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যম আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।

প্রেসসচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত কর্মসূচির সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা এবং নিহত হাদির দীর্ঘদিনের সহযোগী আবদুল্লাহ আল জাবের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে আরও বেশ কয়েকজন সমর্থক ও কর্মী আহত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনার পর জাবেরকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়, যেখানে দাবি করা হয় তিনি ‘গুলিবিদ্ধ’ হয়েছেন।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘গুলিবিদ্ধ’ শব্দটির ব্যবহার সাধারণ মানুষের মধ্যে সরাসরি গুলিতে আহত হওয়ার ধারণা সৃষ্টি করে। ওই পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতিকে উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে। এর পর কিছু গণমাধ্যম সেই পোস্টকে যাচাই ছাড়াই সত্য হিসেবে ধরে নিয়ে শিরোনাম ও চিত্রসহ সংবাদ প্রকাশ করে, যার ফলে ভুয়া তথ্য দ্রুত বিস্তার লাভ করে।

শফিকুল আলম বলেন, পরিস্থিতি স্পষ্ট করার জন্য সরকার তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। ঢাকা মহানগর পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনায় বর্তমানে পুলিশ সদস্যরা প্রাণঘাতী অস্ত্র বহন করে না। পাশাপাশি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকও নিশ্চিত করেন, সংঘর্ষে আহত কোনো ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হননি।

প্রেসসচিবের মতে, সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশন একটি গুরুদায়িত্বপূর্ণ কাজ। একটি ভুল বা অতিরঞ্জিত সংবাদ সহিংসতা উসকে দিতে পারে, দাঙ্গা সৃষ্টি করতে পারে এবং জনজীবনে অস্থিরতা ডেকে আনতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় কিছু গণমাধ্যম তথ্য যাচাইয়ের পরিবর্তে দ্রুততা ও আকর্ষণীয় উপস্থাপনার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

সরকারের বক্তব্যে বলা হয়, শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার, ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সহায়তা করা সম্ভব হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত বক্তব্যের ফলে গুজব ও বিভ্রান্তি কিছুটা কমে আসে।

শফিকুল আলম অতীতের একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, মাইলস্টোন স্কুল এলাকায় বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার পরও ভুল ও অতিরঞ্জিত সংবাদ পরিবেশনের কারণে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সে সময় উচ্ছৃঙ্খল একটি জনতা দীর্ঘ সময় ধরে কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং অন্য একটি দল সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর চালায়। সরকারের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকরা প্রায়ই সরকার, রাজনীতিক এবং প্রভাবশালী মহলের দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন তোলেন, যা গণতান্ত্রিক সমাজে গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের নিজস্ব পেশাগত দায়িত্ব ও আত্মসমালোচনার বিষয়টিও সমান গুরুত্ব পাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবেদনশীল ঘটনায় তথ্য যাচাই ও নির্ভুলতার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা হবে, যাতে জনমনে বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ