রাজনীতি ডেস্ক
বরগুনার পাথরঘাটা হাইস্কুল মাঠে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নির্বাচনি জনসভায় চরমোনাই পীর ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, রাজনীতিতে ক্ষমতার লোভের কারণে নীতি বজায় থাকে না। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি, দেশপ্রেম ও জনগণের সেবাই ইসলামী আন্দোলনের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। পীর রেজাউল করীমের বক্তব্যে বলা হয়, তাদের রাজনীতি এমপি বা মন্ত্রী হওয়ার জন্য নয়, বরং দেশ, ইসলাম ও মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করাই মুখ্য উদ্দেশ্য।
তিনি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপর আলোকপাত করে বলেন, স্বাধীনতার পর গত ৫৪ বছরে যারা দেশ পরিচালনা করেছেন, তাদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতিতে শীর্ষে উঠে। তিনি উল্লেখ করেন, হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে এবং এর প্রভাবে বিদেশে গড়ে উঠেছে ‘বেগমপাড়া’ নামে পরিচিত এলাকা।
চরমোনাই পীর জামায়াতের কার্যক্রমের সমালোচনা করে বলেন, ৫ আগস্টের পর তাদের প্রকৃত চেহারা জনগণের সামনে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষমতায় গেলে জামায়াত শরিয়াহ অনুসারে রাষ্ট্র পরিচালনা করবে না এবং ইসলামের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার স্পষ্ট অঙ্গীকারের অভাবে ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি আরও জানান, জোট থেকে বেরিয়ে আসার পর অনেকেই মনে করেছিলেন ইসলামী আন্দোলন একা হয়ে পড়েছে, কিন্তু বাস্তবে পার্টিটি এখন আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সাধারণ মানুষ হাতপাখা প্রতীকের প্রতি সমর্থন জানাবে এবং ১২ ফেব্রুয়ারি বরগুনা-২ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী বিজয়ী হবে।
জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলনের বরগুনা-২ আসনের প্রার্থী মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী, দলের উপদেষ্টা ও বরগুনা-১ আসনের প্রার্থী অলিউল্লাহ, ভাওয়ালকারের পীর আবদুল কাদের, জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুর সাকুর এবং ইসলামী আলোচক হাবিবুর রহমান মেজবাহ। তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, ইসলামিক নীতি অনুসারে দেশ পরিচালনার গুরুত্ব এবং সাধারণ জনগণের কল্যাণে দলের অঙ্গীকারের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন।
এ ধরনের জনসভা রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা ও নির্বাচনী কার্যক্রমে দলের অবস্থানকে দৃঢ় করার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে গণমানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সুযোগ হিসেবে দেখা যায়। বরগুনা-২ আসনের নির্বাচনে এই জনসভার মাধ্যমে ভোটারদের কাছে ইসলামী আন্দোলনের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং প্রার্থী নির্বাচন সংক্রান্ত ধারণা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।


