খেলাধূলা ডেস্ক
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপের দশম আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আগামীকাল আয়ারল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে শ্রীলংকা। ‘বি’ গ্রুপের এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলংকার কলম্বোতে। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে ম্যাচটি। বিশ্বকাপের মঞ্চে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের শতভাগ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখে টুর্নামেন্ট শুরু করার লক্ষ্য শ্রীলংকার। অন্যদিকে, বিশ্বকাপে লংকানদের বিপক্ষে এখনো জয় না পাওয়া আয়ারল্যান্ড এবার সেই ধারাবাহিকতা ভাঙতে চায়।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এখন পর্যন্ত তিনবার মুখোমুখি হয়েছে শ্রীলংকা ও আয়ারল্যান্ড। তিনটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্বকাপের মঞ্চে এবং প্রতিবারই জয় পেয়েছে শ্রীলংকা। ২০০৯ সালে লর্ডসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শ্রীলংকা জয় পায় ৯ রানে। এরপর ২০২১ সালে আবু ধাবিতে তারা আয়ারল্যান্ডকে পরাজিত করে ৭০ রানে। সর্বশেষ ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ার হোবার্টে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শ্রীলংকা জয় পায় ৯ উইকেটে। ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শতভাগ সাফল্য ধরে রেখেছে লংকানরা।
এই পরিসংখ্যান শ্রীলংকার জন্য আত্মবিশ্বাসের হলেও দলটি প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নিচ্ছে না। শ্রীলংকার অধিনায়ক দাসুন শানাকা জানিয়েছেন, তাদের মূল লক্ষ্য বিশ্বকাপ অভিযান জয় দিয়ে শুরু করা। তিনি বলেন, ঘরের মাঠের সুবিধা ও অতীতের ফলাফল দলকে এগিয়ে রাখলেও আয়ারল্যান্ড একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দল। জয়ের জন্য নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে, আয়ারল্যান্ড শিবিরে অতীত রেকর্ড নিয়ে খুব বেশি ভাবনার ইঙ্গিত নেই। দলের অধিনায়ক পল স্টার্লিং জানিয়েছেন, প্রতিটি ম্যাচেই জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামে তার দল। শ্রীলংকার বিপক্ষে আগের ফলাফল বর্তমান ম্যাচে প্রভাব ফেলবে না বলে মনে করছেন তিনি। স্টার্লিংয়ের মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ভালো শুরু করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
তবে ম্যাচের আগেই শ্রীলংকার জন্য এসেছে একটি দুঃসংবাদ। দলের ডানহাতি পেসার ইশান মালিঙ্গা কাঁধের চোটের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শুরুর ঠিক একদিন আগে এই ইনজুরি শ্রীলংকা শিবিরে কিছুটা দুশ্চিন্তা তৈরি করেছে। মালিঙ্গার পরিবর্তে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে আরেক পেসার প্রামোদ মাধুশানকে।
প্রামোদ মাধুশান ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত শ্রীলংকার হয়ে ৮টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ১২টি উইকেট শিকার করেছেন। তিনি সর্বশেষ ২০২৩ সালের এপ্রিলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলেন। ইনজুরির কারণে দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে সুযোগ পাওয়ায় তার ওপর বাড়তি নজর থাকবে।
শ্রীলংকা দল এই বিশ্বকাপে ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড নিয়ে খেলছে বলে মনে করা হচ্ছে। দলে রয়েছেন অভিজ্ঞ ব্যাটার কুশল মেন্ডিস, কুশল পেরেরা ও চারিথ আসালাঙ্কার মতো খেলোয়াড়রা। অলরাউন্ডার হিসেবে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও দুনিথ ওয়েলালাগে দলের ভারসাম্য রক্ষা করবেন। বোলিং বিভাগে মাহিশ থিকশানা, দুশমান্থা চামিরা ও মাথিশা পাথিরানার মতো পেস ও স্পিন সমন্বয় শ্রীলংকার শক্তি।
অন্যদিকে, আয়ারল্যান্ড দলও অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গড়া। অধিনায়ক পল স্টার্লিংয়ের সঙ্গে ব্যাটিংয়ে ভরসা হ্যারি টেক্টর ও লরকান টাকারের ওপর। অলরাউন্ডার হিসেবে কার্টিস ক্যাম্ফার ও গ্যারেথ ডেলানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বোলিং আক্রমণে জশ লিটল, মার্ক অ্যাডায়ার ও ব্যারি ম্যাকাকার্থির ওপর আয়ারল্যান্ডের প্রত্যাশা থাকবে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচের ফলাফল ‘বি’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলে প্রাথমিক অবস্থান নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে। অতীত পরিসংখ্যান শ্রীলংকার পক্ষে থাকলেও আয়ারল্যান্ডের জন্য এটি নতুন সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে কলম্বোর মাঠে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।


