রাজনীতি ডেস্ক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, তিনি রাজনৈতিক জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত থাকার চেষ্টা করেছেন এবং কোনো দুর্যোগ বা সংকটে এলাকাবাসীর কাছ থেকে নিজেকে দূরে রাখেননি। রাজধানীর কাকরাইলে একটি নির্বাচনী মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শনিবার কাকরাইলের হক ক্যাসেল এলাকায় ফ্ল্যাট মালিকদের সঙ্গে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা শেষে গণসংযোগকালে মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি মন্ত্রী ও মেয়রের দায়িত্ব পালন করলেও ক্ষমতার সুবিধা গ্রহণকে অগ্রাধিকার দেননি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের দেওয়া ভোটের মর্যাদা রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তিনি সবসময় নিজের এলাকায় অবস্থান করাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, অভিজাত এলাকায় সরকারি বাসভবনে অবস্থান করলে সাধারণ মানুষের জন্য তার কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে যেত, বিশেষ করে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতার কারণে। এ কারণেই তিনি এলাকায় থেকেই রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন বলে জানান।
এর আগে একই দিনে তিনি রাজধানীর সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা-৮ আসনের পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে একটি মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সেখানে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়া, ভোটাধিকার এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতা নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, দেশের সচেতন জনগণ যখন ভোট দেওয়ার প্রকৃত সুযোগ পেয়েছে, তখন তারা সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে। তবে তার অভিযোগ, গত ১৭ বছর ধরে জনগণ সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছে।
মির্জা আব্বাস দাবি করেন, দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচনী এলাকার মানুষ কার্যকর সংসদীয় প্রতিনিধিত্ব পায়নি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, গত প্রায় দেড় দশকে ওই এলাকার বাসিন্দারা নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সরাসরি উপস্থিতি বা কার্যক্রম দেখেননি। তিনি বলেন, সংসদ সদস্যের নাম শোনা গেলেও তিনি কোথায় থাকেন বা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করেন—সে বিষয়ে এলাকাবাসী অবগত নয়। এমনকি তিনি নিজেও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধির কার্যকর উপস্থিতি খুঁজে পাননি বলে মন্তব্য করেন।
পোলিং এজেন্টদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বিএনপির রাজনৈতিক আন্দোলনের ইতিহাসের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি বলেন, দলটির নেতাকর্মীরা বছরের পর বছর কারাবরণ করেছেন এবং ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক দাবি আদায়ের পথ সুগম করেছেন। তার মতে, এসব আন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়; বরং এটি সম্মিলিত রাজনৈতিক প্রচেষ্টার ফল। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কেউ কেউ এমন আচরণ ও বক্তব্য দিচ্ছেন, যেন তারাই এককভাবে দেশের বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিদার। তিনি এ ধরনের মনোভাবকে বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে উল্লেখ করেন।
মির্জা আব্বাস তার বক্তব্যে দলীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও তিনি জনগণের কাছে সহজলভ্য থাকতে চান। তার ভাষায়, তাকে খুঁজে পেতে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতার প্রয়োজন নেই; একটি ফোন কল করলেই যোগাযোগ সম্ভব হবে। তিনি আশ্বাস দেন, বাসায় না থাকলেও ফোনের মাধ্যমে জানালে তিনি সাড়া দেবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা-৮ আসন রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা, যেখানে নগর সমস্যা, নাগরিক সেবা, ভোটাধিকার ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে মির্জা আব্বাসের বক্তব্য মূলত ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ এবং রাজনৈতিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতার ওপর জোর দিচ্ছে। এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচনী মাঠে তার অবস্থান ও রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট করার পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


