পটুয়াখালী-২ আসনে জনসভায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে বিতর্ক

পটুয়াখালী-২ আসনে জনসভায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে বিতর্ক

রাজনীতি ডেস্ক

পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে জামায়াতে ইসলামীর ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী ডা. শফিকুল ইসলাম মাসুদের নির্বাচনি জনসভায় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ঘিরে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। যদিও ওই আসনে অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘ঈগল’ প্রতীকে লড়ছেন, তবুও তিনি প্রকাশ্যভাবে জোটপ্রার্থী মাসুদের পক্ষে সমর্থন প্রকাশ করেছেন।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাউফল পৌর শহরের পাবলিক মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভায় বক্তব্য দেওয়ার শেষ পর্যায়ে হঠাৎ রুহুল আমিন ‘জয় বাংলা, আসসালামু আলাইকুম’ স্লোগান দেন। তার এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে নানা আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

রুহুল আমিন সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, তিনি এই স্লোগান দেন মূলত আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারদের সমর্থন ও ভোট প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের অনেক সাধারণ ভোটার কোনো অপরাধে জড়িত নন। গ্রাম পর্যায়ে এখনও তাদের বড় একটি ভোটব্যাংক রয়েছে। অপরাধে জড়িত মানুষের সংখ্যা খুবই সামান্য।”

তিনি আরও জানান, জামায়াত ও ১১-দলীয় ঐক্যজোট ক্ষমতায় এলে লুটপাট, চাঁদাবাজি ও অন্যায়ের রাজনীতি বন্ধ হবে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে। এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনী প্রার্থীর এমন আচরণ স্থানীয় রাজনীতিতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং ভোটারদের মনোভাব প্রভাবিত করতে পারে।

পটুয়াখালী-২ আসনটি সাধারণত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড়াও বিভিন্ন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিটি প্রার্থীর বক্তব্য ও আচরণ ভোটের ফলাফলের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যেখানে প্রার্থীরা একে অপরের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করছেন বা বিরোধী দলের ভোটব্যাংকের প্রতি মনোযোগ দিচ্ছেন।

জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সূত্র জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি এবং জনসভা আয়োজনে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে নির্বাচনী আচরণ, স্লোগান ও জনমতের দিকে সরব মনোযোগ দেয়ার কারণে রাজনৈতিক উত্তাপ ও আলোচনা বাড়ছে।

স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এমন ঘটনা প্রার্থী ও দলের ভাবমূর্তির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ, প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক বার্তা প্রকাশের ধরন নির্বাচনের ফলাফলের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর এমন আচরণ যিনি একই সময় জোটপ্রার্থীর সমর্থনও প্রকাশ করছেন, তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বিতর্ক ও সমালোচনা উভয়ই সৃষ্টি করতে পারে।

জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের ঘটনাগুলো ভোটারদের মনোভাবের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত এবং নির্বাচনী প্রচারণার সময় যে কোনো প্রার্থীর আচরণ রাজনৈতিক ফলাফলের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ