রাজনীতি ডেস্ক
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য বিএনপি নিজেদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে। গতকাল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার ঘোষণা করেন। দলটি এতে দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নীতি সম্পর্কিত অবস্থান স্পষ্ট করেছে, বিশেষভাবে ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে কেন্দ্র করে।
ইশতেহারে বিএনপি সীমান্ত সমস্যা, নদীর পানি বণ্টন, এবং চোরাচালান ও পুশ-ইন বিষয়গুলোকে প্রধানভাবে তুলে ধরেছে। দলটি জানিয়েছে, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড ও চোরাচালান ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। এছাড়া ভারত থেকে অনিয়ন্ত্রিত পুশ-ইনের ঘটনা রোধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
নদীর পানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ইশতেহারে বিএনপি বিশেষভাবে তিস্তা ও পদ্মা নদীর ন্যায্য ভাগ নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে বলে উল্লেখ করেছে। এছাড়া পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প, তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও যৌথ নদী কমিশনকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। যৌথ নদী কমিশনের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা ও সমাধান প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করা হবে।
বিএনপি জানিয়েছে, দেশের বাইরে সম্পর্ক পরিচালনা করার ক্ষেত্রে ‘সমতা ও আত্মসম্মান’ নীতি অনুসরণ করা হবে। অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হবে না এবং নিজ দেশে বিদেশিদের হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। দলটি স্লোগান হিসেবে গ্রহণ করেছে, ‘বন্ধুকে হ্যাঁ, প্রভুকে না’।
এছাড়া ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ভৌগলিক অখণ্ডতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হিসাবে দেখা হবে। তবে বাণিজ্য ও আঞ্চলিক প্লাটফর্মে কার্যকরী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা হবে।
বিএনপি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের বিকল্প শক্তি সম্প্রসারণের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেছে। দলটি সার্ককে পুনর্জীবিত করা এবং আসিয়ানে সদস্যপদ অর্জনের চেষ্টা চালাবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অপশন বিস্তৃত হবে এবং একক দেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো সম্ভব হবে।
ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিএনপির ইশতেহারে যে ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে তা দলটির ইচ্ছা প্রকাশ করে যে বাংলাদেশের আলোচনার ধরণে ভারসাম্য আনতে চাইবে। একই সঙ্গে তা দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়ন বজায় রাখার প্রতিশ্রুতিও বহন করে।
নিরীক্ষকরা মনে করছেন, বিএনপির এই ইশতেহার রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক ক্ষেত্রে দলের অবস্থানকে স্পষ্ট করে, বিশেষত সীমান্ত, নদী ও আঞ্চলিক সহযোগিতা সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও উন্নয়ন উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সমন্বয় করার বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে।
বিএনপি কর্তৃপক্ষ বলেছে, আসন্ন নির্বাচনের পর সরকারের নেতৃত্বে এ নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হবে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা হবে।


