ভোটগ্রহণের দিন সব ভোটকেন্দ্র ধূমপানমুক্ত রাখতে ইসির নির্দেশনা

ভোটগ্রহণের দিন সব ভোটকেন্দ্র ধূমপানমুক্ত রাখতে ইসির নির্দেশনা

রাজনীতি ডেস্ক
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ভোটগ্রহণ চলাকালে দেশের সব ভোটদান কেন্দ্র ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্দেশনা দিয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সব রিটার্নিং অফিসারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোটদান কেন্দ্রগুলোতে ধূমপান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। কমিশনের এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রগুলোকে ধূমপানমুক্ত এলাকা হিসেবে নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, নির্বাচন কর্মকর্তাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ভোটগ্রহণের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত ও সুশৃঙ্খল রাখতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণের দিন ভোটার, নির্বাচনকর্মী, পর্যবেক্ষক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দীর্ঘ সময় ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করতে হয়। এ অবস্থায় ধূমপানের ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশগত অসুবিধা সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে বয়স্ক ভোটার, নারী ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছে কমিশন।

বাংলাদেশে পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সরকারি ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতালসহ বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে ধূমপান নিষিদ্ধ। ভোটকেন্দ্রগুলোও নির্বাচনকালীন সময়ে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত সরকারি স্থাপনা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সে বিবেচনায় ভোটকেন্দ্রে ধূমপান নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত আইনগত কাঠামোর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্রের ভেতর ও আশপাশে ধূমপান না করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রের প্রবেশমুখে ধূমপান নিষিদ্ধ সংক্রান্ত নির্দেশনা প্রদর্শন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তদারকি এবং প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় জড়িত কর্মকর্তারা জানান, অতীতের নির্বাচনগুলোতেও ভোটকেন্দ্রে শৃঙ্খলা ও পরিবেশ বজায় রাখতে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এবারের সিদ্ধান্তে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকায় মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন সহজ হবে বলে তারা আশা করছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপানমুক্ত ভোটকেন্দ্র নিশ্চিত করা হলে ভোটারদের জন্য অপেক্ষাকালীন সময় আরও স্বস্তিদায়ক হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনকর্মীদের কর্মপরিবেশ উন্নত হবে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে। দীর্ঘ মেয়াদে এ ধরনের উদ্যোগ জনসাধারণের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে আরও জানা গেছে, ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ধূমপানমুক্ত ভোটকেন্দ্র নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত সেই প্রস্তুতিরই অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভোটকেন্দ্র প্রস্তুত, কর্মকর্তা নিয়োগ, নিরাপত্তা পরিকল্পনাসহ একাধিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ধূমপানমুক্ত ভোটকেন্দ্র নিশ্চিত করার নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে নির্বাচন দিবসে ভোটারদের অংশগ্রহণ আরও সহজ ও স্বাস্থ্যসম্মত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ