ভোট জনগণের হাতে, নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান এনসিপি নেতার

ভোট জনগণের হাতে, নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান এনসিপি নেতার

যশোর — জেলা প্রতিনিধি

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোরে আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, ভোটের মালিকানা কোনো নেতা বা দলের হাতে নয়, ভোটের প্রকৃত অধিকার জনগণের হাতে। তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

শনিবার যশোর শহরের দড়াটানা ভৈরব চত্বরে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এ নির্বাচনী পথসভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপি যশোরের প্রধান সমন্বয়ক নূরুজ্জামান। এতে আরও বক্তব্য দেন যশোর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল কাদের, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক শাকিব শাহরিয়ারসহ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা।

হাসনাত আব্দুল্লাহ তাঁর বক্তব্যে বলেন, দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে এবং জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য অপেক্ষা করছে। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে একটি ঐক্যবদ্ধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

নির্বাচনী প্রচারণা সম্পর্কে তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, প্রত্যেক ভোটারের কাছে গিয়ে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। কোনো ভোটারের রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন হলেও তাঁর কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মতভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক, তবে ভোটের মাঠে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রসঙ্গে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, পুলিশ সদস্যরা তাঁদের পেশাগত যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতেই দায়িত্ব পালন করছেন এবং নির্বাচনের সময় তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পুলিশ সদস্যরা কোনো রাজনৈতিক চাপের বাইরে থেকে দায়িত্ব পালন করবেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে আইন ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেবেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকালীন পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু রাখতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক প্রয়োজন। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচন প্রশাসনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, যার মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন বা হারানোর প্রশ্ন জড়িত। ভোটগ্রহণের দিন প্রশাসনের ভূমিকার ওপর ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের বিশ্বাস অনেকাংশে নির্ভর করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনের দিন করণীয় সম্পর্কে তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের সকাল সাড়ে সাতটার মধ্যে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান। ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার পুরো সময়জুড়ে কেন্দ্র এলাকায় অবস্থান করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের নির্দেশনা দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে শান্তিপূর্ণভাবে দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দেওয়া হয়।

পথসভার শেষাংশে তিনি যশোর-৩ আসনের প্রার্থী আব্দুল কাদেরকে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাঁকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের পরিচিতি ও কর্মসূচি জনগণের কাছে তুলে ধরাই রাজনৈতিক দলের অন্যতম দায়িত্ব।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলে নির্বাচনী প্রচারণা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। বিভিন্ন দল ও জোটের সভা-সমাবেশে ভোটাধিকার, প্রশাসনের ভূমিকা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনে এসব বক্তব্য ও কর্মসূচি ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে কী প্রভাব ফেলে, তা পর্যবেক্ষণ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শীর্ষ সংবাদ সারাদেশ