খেলাধূলা ডেস্ক
সৌদি পেশাদার লিগে আল নাসরের হয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামেননি ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। ক্লাব ব্যবস্থাপনা ও ট্রান্সফার কাঠামো নিয়ে চলমান অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে শুক্রবার আল ইত্তিহাদের বিপক্ষে ম্যাচের স্কোয়াডে ছিলেন না পর্তুগিজ এই তারকা ফরোয়ার্ড। এর আগে সোমবার আল রিয়াদের বিপক্ষেও আল নাসরের জয়ের ম্যাচে তাকে দেখা যায়নি।
৪১ বছর বয়সী রোনাল্ডোর অনুপস্থিতি ঘিরে সৌদি ফুটবল অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি হয়। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সৌদি আরবের পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (পিআইএফ) আল নাসর ক্লাবের ব্যবস্থাপনায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের বিষয়ে স্পষ্ট নিশ্চয়তা না দেওয়ায় শুক্রবারের ম্যাচে না খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন রোনাল্ডো। যদিও ক্লাব কর্তৃপক্ষ ম্যাচটিতে তার অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করেছিল বলে জানা যায়।
সূত্রটি আরও জানায়, জানুয়ারির ট্রান্সফার উইন্ডোতে দল গঠনে পিআইএফের সহায়তা নিয়ে সন্তুষ্ট না থাকায় রোনাল্ডো সোমবারের ম্যাচটিও মিস করেন। ট্রান্সফার কার্যক্রমে তুলনামূলকভাবে কম অগ্রগতি হওয়ায় তিনি হতাশ ছিলেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এই অসন্তোষ আরও বাড়ে জানুয়ারির ট্রান্সফার উইন্ডোতে আল নাসরের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী আল হিলালের বড় দলে শক্তি বাড়ানোর পর। পিআইএফের মালিকানাধীন আল হিলাল, আল ইত্তিহাদ থেকে রোনাল্ডোর সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ করিম বেনজেমাকে দলে ভেড়ায়। এতে শিরোপা লড়াইয়ে প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য নিয়ে রোনাল্ডোর উদ্বেগ বাড়ে বলে জানা গেছে।
রোনাল্ডো না খেললেও মাঠের পারফরম্যান্সে পিছিয়ে পড়েনি আল নাসর। শুক্রবার আল ইত্তিহাদের বিপক্ষে তারা ২-০ গোলে জয় পায়। এই জয়ে লিগ টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে দলটি। বর্তমানে শীর্ষে থাকা আল হিলালের থেকে মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে আল নাসর, ফলে শিরোপা দৌড় এখনো উন্মুক্ত রয়েছে।
ম্যাচ চলাকালে আল-আওয়াল পার্কে সপ্তম মিনিটে দর্শকদের একটি অংশ রোনাল্ডোর নাম ও তার জার্সির সাত নম্বর লেখা হলুদ প্ল্যাকার্ড তুলে ধরে। এই দৃশ্যকে অনেকেই ক্লাব সমর্থকদের পক্ষ থেকে তারকার প্রতি সমর্থন ও সংহতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন।
এ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সৌদি পেশাদার লিগ কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে রোনাল্ডোকে সতর্ক করে জানায়, কোনো খেলোয়াড়ই নিজের ক্লাবের বাইরে অন্য কোনো সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারেন না। বিবৃতিতে লিগের পরিচালন কাঠামো ও নীতিমালার বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সৌদি পেশাদার লিগ একটি নির্দিষ্ট ও অভিন্ন নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। প্রতিটি ক্লাব একই নিয়মের আওতায় স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয় এবং তাদের নিজস্ব বোর্ড, নির্বাহী ও ফুটবল নেতৃত্ব রয়েছে। খেলোয়াড় নিয়োগ, ব্যয় ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত ক্লাবগুলো একটি নির্ধারিত আর্থিক কাঠামোর মধ্যে থেকেই গ্রহণ করে, যার লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব ও প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য নিশ্চিত করা। এই কাঠামো লিগের সব ক্লাবের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, আল নাসরে যোগ দেওয়ার পর থেকে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো ক্লাবের কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন এবং দলের অগ্রগতি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। একজন শীর্ষ পর্যায়ের পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে তিনি জয়ের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামেন। তবে তারকা খেলোয়াড় হলেও নিজের ক্লাবের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নির্ধারণের ক্ষমতা তার নেই বলে লিগ স্পষ্ট করে জানায়।
বিবৃতির শেষাংশে লিগের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তুলে ধরে বলা হয়, শীর্ষ চার দলের মধ্যে পয়েন্ট ব্যবধান খুবই কম, যা প্রমাণ করে শিরোপার লড়াই এখনো জমজমাট। এই প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্যই বর্তমান ব্যবস্থার কার্যকারিতা তুলে ধরে।
এদিকে ট্রান্সফার তহবিলের কাঠামো নিয়েও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া গেছে। জানা গেছে, খেলোয়াড় কেনার অর্থ সরাসরি পিআইএফ থেকে ক্লাবগুলোকে দেওয়া হয় না। বরং একটি কেন্দ্রীয় প্লেয়ার অ্যাকুইজিশন ফান্ডের মাধ্যমে এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়, যা সৌদি পেশাদার লিগের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ক্লাবের আকার ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতি বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। দেশের ‘বিগ ফোর’ হিসেবে পরিচিত আল নাসর, আল হিলাল, আল ইত্তিহাদ ও আল আহলি গত বছরের গ্রীষ্মকালীন ট্রান্সফার উইন্ডোর আগে প্রায় সমপরিমাণ তহবিল পেয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।


