রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকায় একাধিক নির্বাচনী জনসভায় অংশ নিতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর উত্তরের ছয়টি সংসদীয় আসনে আয়োজিত এসব জনসভায় তিনি বক্তব্য দেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে।
শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, দলীয় অবস্থান ব্যাখ্যা এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এই জনসভাগুলোর আয়োজন করা হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর ২টায় ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের ইসিবি চত্বরে প্রথম জনসভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান। এটি তার নিজ নির্বাচনী এলাকা হিসেবে পরিচিত। এরপর পর্যায়ক্রমে তিনি ঢাকা মহানগর উত্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন।
তফসিল অনুযায়ী, দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ঢাকা-১৬ আসনের পল্লবী ২ নম্বর ওয়ার্ডের লাল মাঠে, সাড়ে ৩টায় ঢাকা-১৫ আসনের মিরপুর-১০ গোলচত্বরসংলগ্ন সেনপাড়া আদর্শ সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে, বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে ঢাকা-১৪ আসনের ন্যাশনাল বাংলা উচ্চবিদ্যালয় গেটে, বিকাল ৫টা ১০ মিনিটে ঢাকা-১৩ আসনের শ্যামলী সিনেমা হলের পশ্চিম পাশে শ্যামলী ক্লাব মাঠে এবং সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকা-১১ আসনের বাড্ডা সাতারকুলের সানভ্যালি মাঠে জনসভায় বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে তার।
দলীয় নেতারা জানান, এসব জনসভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নির্বাচনী জনসভাগুলোর মাধ্যমে দলীয় প্রার্থীদের পরিচিতি তুলে ধরা, নির্বাচনী ইশতেহারের মূল দিকগুলো ব্যাখ্যা করা এবং ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করাই মূল লক্ষ্য বলে জানানো হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মাঠপর্যায়ের তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। রাজধানী ঢাকা দেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হওয়ায় এখানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী কর্মসূচিগুলো জাতীয় রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ঢাকা মহানগর উত্তরের আসনগুলোতে জনসংখ্যা বেশি এবং ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা তুলনামূলকভাবে উচ্চ হওয়ায় এসব এলাকায় প্রচারণাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিএনপি।
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জনসভাগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে দলীয় স্বেচ্ছাসেবক ও শৃঙ্খলা রক্ষাকারী ইউনিটগুলোকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে শীর্ষ নেতাদের সরাসরি জনসভায় অংশগ্রহণ দলীয় কর্মীদের মধ্যে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে এবং ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। ঢাকা মহানগর এলাকায় ধারাবাহিক জনসভা আয়োজনের মাধ্যমে বিএনপি তাদের সাংগঠনিক শক্তি ও নির্বাচনী প্রস্তুতির চিত্র তুলে ধরতে চাইছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


