রাজনীতি ডেস্ক
দেশের বাস্তবতা, মানুষের জীবনযাপন ও সমস্যা সম্পর্কে যাদের যথাযথ ধারণা নেই, তারা কীভাবে দেশকে মুক্তির পথে নিয়ে যাবে—এ প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণের দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত জনগণের হাতেই থাকবে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকার খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, অতীতে যেমন একটি নির্দিষ্ট তারিখের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে, তেমনি সামনের দিনগুলোতেও পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সেই পরিবর্তন ইতিবাচক হবে নাকি নেতিবাচক হবে, তা নির্ভর করবে জনগণের সিদ্ধান্তের ওপর। তিনি বলেন, ভোটের মাধ্যমেই জনগণকে ঠিক করতে হবে কোন পথে দেশ এগোবে।
একটি রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, তারা প্রকাশ্যে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর চাঁদাবাজি ও দখলদারির মতো কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, গত দেড় বছরের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করলে ওই দলের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়। এ ধরনের রাজনীতিকে ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান তিনি।
১১ দলীয় ঐক্যের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, এই জোট প্রতিটি সংসদীয় আসনে সমঝোতার ভিত্তিতে একজন করে প্রার্থী দিয়েছে। গত দেড় বছর ধরে জোটের নেতাকর্মীরা মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে তাদের কথা শুনেছেন এবং সমস্যার কথা জেনেছেন। জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই বিভিন্ন মতাদর্শের দল নিজেদের স্বার্থ ও অবস্থান ছাড় দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর বিপরীতে তিনি বলেন, কিছু দল নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারার উদ্দেশ্যে একই আসনে একাধিক প্রার্থী দাঁড় করিয়েছে। এতে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভ্রান্তি বাড়বে বলে তিনি মনে করেন। তার মতে, এটি জনগণের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, নির্বাচনের সময় অনেক দল সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখালেও মাঠপর্যায়ে গিয়ে বাস্তবতাবিবর্জিত ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যেখানে ইতোমধ্যে একটি মেডিকেল কলেজ রয়েছে, সেখানে নতুন করে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে। আবার দীর্ঘদিন ধরে শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এলাকায় নতুন ধরনের অর্থনৈতিক অঞ্চল করার কথাও বলা হচ্ছে, যা স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষি ও অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় কিছু নেতা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে বক্তব্য দিচ্ছেন। এতে প্রমাণ হয়, তারা সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের জীবনযাপন ও সমস্যার সঙ্গে পরিচিত নন। আসিফ মাহমুদের মতে, যে নেতৃত্ব দেশের মানুষ ও তাদের বাস্তব সমস্যা সম্পর্কে অবগত নয়, তারা কীভাবে দেশের উন্নয়ন ও মুক্তির স্বপ্ন দেখাতে পারে—সেই প্রশ্নটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার।
বক্তব্যের শেষভাগে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে জনগণকে দুটি ধরনের নেতৃত্বের মধ্যে বেছে নিতে হবে। একদিকে রয়েছে রাজপথ, আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে উঠে আসা নেতৃত্ব, যারা সরাসরি জনগণের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে রয়েছে এমন নেতৃত্ব, যারা দেশের বাইরে আরাম-আয়েশে বড় হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন বাস্তবতা সম্পর্কে কম জানে। কোন নেতৃত্ব দেশের ভবিষ্যৎ পরিচালনা করবে, সে সিদ্ধান্ত জনগণকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জনসভায় উপস্থিত ১১ দলীয় ঐক্যের অন্যান্য নেতারাও নির্বাচন, রাজনৈতিক সংস্কার এবং সুশাসনের বিষয়ে বক্তব্য দেন। তারা ভোটের মাধ্যমে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান এবং জনগণকে সচেতনভাবে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন।


