রাজনীতি ডেস্ক
নীলফামারী-৪ (কিশোরগঞ্জ-সৈয়দপুর) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। আসনটিতে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর গফুর সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মির্জা মো. শওকত আকবর (রওশন) নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এর আগের দিন একই আসনের আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মামুনুর রশীদ মামুনও বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মির্জা মো. শওকত আকবর আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। একই সঙ্গে তিনি নীলফামারী-৪ আসনে দলীয় প্রার্থী আব্দুর গফুর সরকারকে সমর্থনের ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানান। দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
নির্বাচনী সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নীলফামারী-৪ আসনে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন। তবে নির্বাচনী প্রচারণার মাঝপথে পরপর দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় আসনটির রাজনৈতিক চিত্র নতুনভাবে বিন্যস্ত হচ্ছে। এতে বিএনপির প্রার্থীর অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মির্জা মো. শওকত আকবর তাঁর বক্তব্যে জানান, তিনি দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং দলটির বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। তবে নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের যথাযথ মূল্যায়ন না পাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি নতুন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কাঁঠাল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্মূল্যায়নের অংশ হিসেবে তিনি বিএনপিতে যোগদান এবং দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এর আগে শুক্রবার রাতে স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মামুনুর রশীদ মামুনও একই ধরনের সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বিএনপির প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে নির্বাচনী মাঠ থেকে সরে দাঁড়ান। ফলে দুই দিনের ব্যবধানে একই আসনে দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে।
সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি ও নীলফামারী-৪ আসনের প্রার্থী আব্দুর গফুর সরকার জানান, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য ও দলীয় শক্তি সংহত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বিএনপির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদ মামুন এবং মির্জা মো. শওকত আকবর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক বিবেচনা থেকে বিএনপিকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি আরও জানান, মির্জা মো. শওকত আকবরের সঙ্গে জাতীয় পার্টির স্থানীয় পর্যায়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নীলফামারী-৪ আসনটি বরাবরই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। এখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক তৎপরতা এবং ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সরে দাঁড়ানো নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কমাতে পারে এবং ভোটের হিসাব নতুনভাবে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে দলীয় রাজনীতির বাইরে থাকা ভোটারদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে এ পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে নির্বাচনী আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর নাম ব্যালট বা নির্বাচনী প্রতীক সংক্রান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নীলফামারী-৪ আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। দলীয় প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকেরা নির্বাচনী প্রচারণা জোরদার করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সরে দাঁড়ানোর পর নির্বাচনী মাঠে এখন মূলত দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা সীমিত হয়ে আসছে, যা ভোটারদের সিদ্ধান্তে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিনই স্পষ্ট হবে।


