বিনোদন ডেস্ক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার জিয়াগঞ্জে একটি সরকারি কলেজে গভীর রাতে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং ও বলিউড অভিনেতা আমির খানকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়াই সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ ও সেখানে সময় কাটানোর অভিযোগ সামনে আসার পর ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনাটি ঘটে গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাতের পর। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাত ১টার পর অরিজিৎ সিং ও আমির খান প্রায় ২০ জন সঙ্গীসহ মোটরসাইকেলযোগে জিয়াগঞ্জের রানী ধন্যা কুমারী সরকারি কলেজে প্রবেশ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজ প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া তারা ওই সময় কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থান করেন।
কলেজ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই দুই তারকা প্রায় দেড় ঘণ্টা কলেজ চত্বরে ছিলেন। এ সময় তারা কলেজের ইনডোর গেমস হলে ব্যাডমিন্টন খেলেন এবং কিছু ভিডিও ধারণ করা হয়। রাত আনুমানিক ২টা ২৫ মিনিটের দিকে তারা কলেজ এলাকা ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে। ঘটনার সময় কলেজের নিয়মিত কার্যক্রম বন্ধ ছিল এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন একজন নাইট গার্ড।
এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি দ্রুত আলোচনায় আসে। কলেজের অধ্যক্ষ অজয় অধিকারী ওই ফুটেজ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, অনুমতি ছাড়া রাতের বেলায় সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করা বিধিবহির্ভূত এবং গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর বক্তব্যে সরকারি সম্পত্তি ব্যবহারের নিয়ম ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
অধ্যক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট নাইট গার্ডকে প্রভাবিত করে কলেজে প্রবেশ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে রাতের বেলায় কলেজ প্রাঙ্গণ ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে, যা প্রচলিত আইন ও সরকারি বিধির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অনুমতি ও সময়সূচি অনুসরণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সিসিটিভি ফুটেজসহ অধ্যক্ষের দেওয়া একাধিক পোস্ট দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তবে কিছু সময় পর অধ্যক্ষ ওই পোস্টগুলো মুছে ফেলেন। পরবর্তী এক পোস্টে তিনি জানান, বিশেষ একটি মহলের অনুরোধ ও চাপের কারণে তিনি আগের পোস্টগুলো সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে কারা সেই চাপ প্রয়োগ করেছেন বা কী ধরনের অনুরোধ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
স্থানীয় প্রশাসনিক ও শিক্ষাবিষয়ক মহলে এ ঘটনা সরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সরকারি কলেজে রাতের বেলায় বহিরাগতদের প্রবেশের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা, অনুমতি প্রদানের প্রক্রিয়া এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে খ্যাতিমান ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আইন ও নিয়মের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
উল্লেখ্য, অরিজিৎ সিংয়ের গ্রামের বাড়ি জিয়াগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত। তাঁর নিজস্ব স্টুডিও ও বাসস্থান পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে আমির খান সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। দুজনের একসঙ্গে সময় কাটানো, ব্যক্তিগত মুহূর্ত এবং স্থানীয় পরিবেশে অবস্থানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভক্তদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তবে সরকারি কলেজে গভীর রাতে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ স্থানীয় একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে।
এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত অরিজিৎ সিং বা আমির খানের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে স্থানীয় প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকেও এ বিষয়ে কোনো লিখিত ব্যাখ্যা বা তদন্তের ঘোষণা আসেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও ব্যবহারের নীতিমালা বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


