রাজনীতি ডেস্ক
ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী এনায়েত উল্লাহ। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-১৭ আসনের বনানী কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউতে বিএনপির নির্বাচনী পথসভায় উপস্থিত হয়ে এ ঘোষণা দেন কাজী এনায়েত উল্লাহ। তিনি এই আসন থেকে মোরগ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন।
পথসভায় উপস্থিত ছিলেন তারেক রহমান। এসময় কাজী এনায়েত উল্লাহ জানান, তিনি তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করছেন এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সমর্থন করবেন। তিনি বলেন, “আমি আমার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করছি। উনার (তারেক রহমান) চেয়ে শুধু ঢাকা নয়, সারা বাংলাদেশে যোগ্য প্রার্থী নেই।” এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, “আমি এবং আমার যারা সমর্থক আছি, আজ থেকে ধানের শীষের জন্য কাজ করবো।”
কাজী এনায়েত উল্লাহর এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ভোট বিভাজন রোধ হবে এবং বিএনপির সমর্থকরা এককভাবে ধানের শীষ প্রতীকধারী প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিতে পারবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী অঙ্গনে এ ধরনের সমর্থন ঘোষণা প্রার্থীর নির্বাচনী সম্ভাবনা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
ঢাকা-১৭ আসনটি রাজধানীর বনানী, গুলশান ও উত্তরা এলাকা অন্তর্ভুক্ত করে। দীর্ঘ সময় ধরে এই আসনটি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। গত কয়েকটি নির্বাচনে এখানে বড় দলগুলোর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যেখানে ভোটের ভাগাভাগি নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিএনপি এই আসনে তারেক রহমানকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করায় দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব একযোগে সমর্থন যোগাতে সচেষ্ট হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় আরও সক্রিয় হওয়ার পাশাপাশি সমর্থক সংগঠন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে একত্রিত করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রার্থিতা প্রত্যাহার নির্বাচনে ভোট বিভাজনের ঝুঁকি কমাবে এবং নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়াও, এটি বিএনপির কেন্দ্রীয় সমর্থন প্রদর্শনের পাশাপাশি দলের ঐক্য ও কৌশলগত সংগঠন দৃঢ় করার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পথসভায় তারেক রহমান এবং কাজী এনায়েত উল্লাহর কুশল বিনিময় এবং সমর্থন ঘোষণার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই বিএনপির প্রতি সমর্থকদের মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। আগামী দিনে ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনী মাঠে দলীয় কর্মকাণ্ড আরও তীব্রভাবে পরিচালিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচনী বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, দলীয় সমর্থন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রত্যাহার ভোটাভাবে প্রভাব ফেলতে পারে এবং স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক সমর্থন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এই মুহূর্তকে তাদের নির্বাচনী কৌশল শক্ত করার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করছে।


