ভোটকে অমানত নয়, দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে আহ্বান ড. মিজানুর রহমান আজহারির

ভোটকে অমানত নয়, দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে আহ্বান ড. মিজানুর রহমান আজহারির

রাজনীতি ডেস্ক

জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা ও লেখক ড. মিজানুর রহমান আজহারি সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দেশের সকল নির্বাচনী সংশ্লিষ্ট পক্ষকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা অপরিহার্য।

ড. আজহারি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষ একটি কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন উপহার পেতে চায়। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নাগরিকরা দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সুযোগ পাবে। তিনি বলেন, নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়, এটি দেশের ভবিষ্যৎ গতিধারা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই সময়ে সচেতন ও সংযমী হওয়ার পাশাপাশি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি সাধারণ জনগণকে দেড় যুগ পর তুলনামূলক ভালো নেতৃত্ব নির্বাচনের সুযোগ পেয়েছে উল্লেখ করে সতর্ক করেন যে, নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে ঘিরে নানান গুজব, উসকানি ও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের আবহ তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি বিষয়ে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। সমাজে পারস্পরিক মতভিন্নতা থাকলেও তা যেন প্রতিহিংসা বা সহিংসতায় রূপ নেয় না, তা নিশ্চিত করতে হবে।

ড. আজহারি আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপরও জোর দেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে ব্যক্তিগত সম্পর্ক নষ্ট হওয়া বেদনাদায়ক। তাই যৌক্তিক আলোচনা এবং সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত, ভিন্নমতকে অবমূল্যায়ন করা যাবে না। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সহাবস্থানই মানবিক সমাজের মূল চালিকাশক্তি।

তিনি দোষারোপমুক্ত রাজনীতির আহ্বান জানিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষ ট্যাগিং ও ব্যাশিংমুক্ত পরিচ্ছন্ন রাজনীতি দেখতে চায়। রাজনীতিবিদদের উচিত ইতিবাচক ধারায় রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনা এবং গণমানুষের মৌলিক সমস্যার সমাধানে প্রতিযোগিতা করা। বিভক্তিকর রাজনীতি জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না। ভোট একটি আমানত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে, যা বিবেক, ন্যায়বোধ এবং দায়িত্বশীল আচরণের দাবি রাখে।

ড. আজহারি আরও বলেন, সৎ, যোগ্য ও দেশপ্রেমিক প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে জনগণ সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। পাশাপাশি আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে যাতে নেতৃত্বের দায়িত্বে এমন ব্যক্তিকে নির্বাচন করা হয়, যার হাতে দেশের জনগণ, মাটি ও নিরাপত্তা সুরক্ষিত থাকে।

পরিশেষে তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা দায়িত্ব পান, তাদের মেনে নেওয়া এবং সহযোগিতা করা সকলের দায়িত্ব। নেতৃত্ব পথ দেখাতে পারে, কিন্তু রাষ্ট্রকে এগিয়ে নেয় ঐক্যবদ্ধ জনগণ। তাই সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

Uncategorized রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ