রাফাহে সুড়ঙ্গ থেকে বের হয়ে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার অভিযোগ, চারজন নিহত

রাফাহে সুড়ঙ্গ থেকে বের হয়ে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার অভিযোগ, চারজন নিহত


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গাজার দক্ষিণাঞ্চলের রাফাহ এলাকায় একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ থেকে বের হয়ে ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলার অভিযোগে চারজন সন্দেহভাজন সশস্ত্র কর্মী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী। সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে বলে উভয় পক্ষের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, রাফাহ এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে তাদের সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। অভিযোগ করা হয়েছে, চারজন সশস্ত্র ব্যক্তি একটি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ থেকে বের হয়ে এসে এই হামলা চালান। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনারা পাল্টা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই ওই চারজন নিহত হন। সেনাবাহিনী বলছে, এতে তাদের কোনো সদস্য হতাহত হননি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই হামলাটি ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির শর্তের পরিপন্থী। ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুদ্ধবিরতির আওতায় গাজা উপত্যকায় যেকোনো ধরনের সশস্ত্র তৎপরতা ও হামলা নিষিদ্ধ থাকার কথা। তারা এ ঘটনাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

রাফাহ এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই গাজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। মিসরের সীমান্তবর্তী এই এলাকাটি মানবিক সহায়তা প্রবেশের প্রধান পথ এবং একই সঙ্গে বিভিন্ন সময় সামরিক তৎপরতার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। ইসরাইলি সেনাবাহিনী পূর্বে একাধিকবার দাবি করেছে, রাফাহসহ গাজার বিভিন্ন অংশে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো বিস্তৃত সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে চলাচল ও হামলা পরিচালনা করে থাকে। এসব সুড়ঙ্গকে তারা নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে।

গাজায় সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য ছিল সহিংসতা কমানো, মানবিক সহায়তা প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং বেসামরিক জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করা। তবে যুদ্ধবিরতির সময়েও বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে।

ইসরাইলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের বাহিনী যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা যেকোনো হামলার জবাব দিতে বাধ্য। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, রাফাহর ঘটনায় সেনাদের আত্মরক্ষামূলক অবস্থান থেকেই গুলি চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে তারা জানায়, সীমান্তবর্তী ও সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

অন্যদিকে গাজার সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে এ ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। যুদ্ধবিরতির মধ্যেও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে মানবিক পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

গাজার দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে অঞ্চলটিতে ইতিমধ্যে ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষতি, খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করে বলছে, সহিংসতা অব্যাহত থাকলে মানবিক বিপর্যয় আরও গভীর হবে। এই প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে নতুন করে সহিংসতার ঘটনা ঘটায় কূটনৈতিক ও মানবিক উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

বিশ্লেষকদের মতে, রাফাহের মতো কৌশলগত এলাকায় সহিংসতা বৃদ্ধি পেলে তা শুধু সামরিক পরিস্থিতিকেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টাকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। যুদ্ধবিরতি টেকসই করতে উভয় পক্ষেরই সংযম দেখানো এবং আলোচনার পথ খোলা রাখা জরুরি বলে তারা মনে করছেন।

আন্তর্জাতিক শীর্ষ সংবাদ