জাতীয় ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের আর মাত্র দুই দিন বাকি। এই প্রেক্ষাপটে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৎপরতা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও নানা আলোচনা চলছে। ভোটের আগে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) তিনটি স্বতন্ত্র গবেষণা ও জরিপ সংস্থা পৃথকভাবে প্রাক-নির্বাচনী জরিপ প্রকাশ করেছে। এসব জরিপে ভোটারদের পছন্দ, সম্ভাব্য ভোটের হার এবং আসনভিত্তিক ফলাফল সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন পূর্বাভাস উঠে এসেছে।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল’ অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি (আইআইএলডি), এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) এবং ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেল—এই তিনটি সংস্থার জরিপে প্রধান দুই রাজনৈতিক জোট বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের অবস্থান বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তবে প্রতিটি জরিপের ফলাফলে ব্যবধান ও আসনসংখ্যা নিয়ে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা গেছে।
আইআইএলডির জরিপে ভোটের সার্বিক হার অনুযায়ী দুই প্রধান জোটের মধ্যে খুব সামান্য ব্যবধানের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৪৪ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার, আর জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রতি সমর্থন রয়েছে ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটারের। অর্থাৎ, মোট ভোটের হিসাবে দুই জোটের ব্যবধান মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ।
তবে আসনভিত্তিক বিশ্লেষণে আইআইএলডির জরিপে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ১০৫টি আসনে এগিয়ে থাকতে পারে, যেখানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে থাকতে পারে ১০১টি আসনে। এ ছাড়া ৭৫টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কাছাকাছি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মিলিয়ে প্রায় ১৯টি আসনে জয় পেতে পারেন বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। আইআইএলডি এই জরিপ পরিচালনা করেছে দেশের ৩০০ সংসদীয় আসনে মোট ৬৩ হাজার ১১৫ জন ভোটারের মতামতের ভিত্তিতে।
অন্যদিকে, ইএএসডির জরিপে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটকে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রাখা হয়েছে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, নির্বাচনে বিএনপি জোট ২০৮টি আসনে জয় পেতে পারে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে ৪৬টি আসন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ৩টি, অন্যান্য দল ৪টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৭টি আসনে জয়ী হতে পারেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি ২২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘনিষ্ঠ হতে পারে বলে জরিপে ধারণা দেওয়া হয়েছে।
ইএএসডি জানিয়েছে, তাদের জরিপে ৪১ হাজার ৫০০ জন ভোটারের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, ৬৬ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার বিএনপিকে সমর্থন জানিয়েছেন, যেখানে জামায়াতের প্রতি সমর্থন ১১ দশমিক ৯ শতাংশ। নারী ভোটারদের মধ্যে বিএনপির সমর্থন তুলনামূলক বেশি, যা ৭১ দশমিক ১ শতাংশ বলে জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী শামীম হায়দার তালুকদার জানান, পূর্ববর্তী নির্বাচনে যারা আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেছিলেন, তাদের একটি বড় অংশ এবারের নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেলের প্রকাশিত জরিপেও বিএনপির বড় ধরনের আসনজয়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বিএনপি ২২০টি আসনে জয় পেতে পারে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট পেতে পারে ৫৭টি আসন। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ৫টি, এনসিপি ২টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ১২টি এবং অন্যান্য দল ৪টি আসনে জয়ী হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেলের জরিপে ৩০০ জন উত্তরদাতার মতামত নেওয়া হয়েছে। এতে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের ৭৭ শতাংশ বিএনপিকে এবং ১৬ শতাংশ জামায়াতকে সমর্থন জানিয়েছেন। একই জরিপে গণভোট সংক্রান্ত একটি প্রশ্নেও মতামত নেওয়া হয়। এতে ৪৯ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তারা এখনও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি। ৩০ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ এবং ২১ শতাংশ ‘না’ ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রাক-নির্বাচনী জরিপগুলো নির্বাচনী প্রবণতা সম্পর্কে একটি ধারণা দিলেও বাস্তব ফলাফল ভোটগ্রহণ ও ভোট গণনার পরই স্পষ্ট হবে। বিভিন্ন সংস্থার জরিপে নমুনা সংখ্যা, পদ্ধতি ও বিশ্লেষণের ভিন্নতার কারণে পূর্বাভাসে পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ফলে এসব জরিপকে চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে না দেখে সম্ভাব্য প্রবণতার একটি প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


