ওমর সানীর রাজনৈতিক পোস্টে শোবিজ অঙ্গনের বিতর্ক

ওমর সানীর রাজনৈতিক পোস্টে শোবিজ অঙ্গনের বিতর্ক

রাজনীতি ডেস্ক

চিত্রনায়ক ওমর সানী সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে ফিরে এসেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘বের করেন কোনো কিছু, আমার খুঁজে পান কি না? ভোট আমি ধানের শীষে দেব।’ পোস্টের সঙ্গে একটি ছবি যুক্ত করে তিনি কার্যত নেটিজেনদের সামনে একটি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ উত্থাপন করেছেন, যাতে দেখা যায় যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি কোনো রাজনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন কি না।

সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এই পোস্টের পর নেটিজেনরা তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট তুলে এনেছেন। উল্লেখযোগ্য হলো, তার স্ত্রী, নায়িকা মৌসুমী, এক সময় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। ২০১৯ সালের ১৬ জানুয়ারি মৌসুমী মনোনয়নপত্র কিনতে যান আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে। তিনি সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। সেই সময় তাকে ঘিরে প্রচুর উপস্থিতি এবং সেলফি তোলার হিড়িক লক্ষ্য করা গেছে। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দেয়নি। বর্তমানে মৌসুমী কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় নন এবং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

ওমর সানীর পোস্ট এবং পারিবারিক প্রেক্ষাপট শোবিজ অঙ্গনের মধ্যেও বিতর্ক তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রচারণায় শোবিজ অঙ্গনের একাধিক পরিচিত মুখ যুক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন চিত্রপরিচিতি মনির খান, রবি চৌধুরী, নায়িকা শিমলা এবং অনেকে। তারা সকলেই ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাওয়ার বিষয়ে প্রকাশ্যভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। তবে অতীতে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে এসব তারকা সামাজিক মাধ্যমে ট্রলের মুখে পড়েছেন।

ওমর সানীর পোস্টকে বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করছেন আত্মপক্ষ সমর্থন এবং রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার প্রচেষ্টা হিসেবে। শোবিজ অঙ্গনের কিছু অংশে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ছিল যে, আওয়ামী লীগ আমলে সুবিধাভোগী শিল্পীরা হঠাৎ করেই ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাইছেন। এই প্রেক্ষাপটে সানীর পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

প্রতিক্রিয়াগুলো বিভিন্ন মাত্রার ছিল। কিছু নেটিজেন সরাসরি তাকে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অনেকে তার অতীত অবস্থান এবং পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রশ্ন তুলেছেন। তদুপরি, মৌসুমীর রাজনৈতিক মনোভাব এবং অতীত কর্মকাণ্ডও আলোচনার বিষয় হয়েছে।

এই ঘটনা বাংলাদেশের শোবিজ ও রাজনীতির সংযোগের এক দিক প্রতিফলিত করছে। শোবিজ অঙ্গনের পরিচিত মুখরা নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ায় সামাজিক মাধ্যমে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিশেষত এমন সময়ে, যখন ব্যক্তি বা পরিবারের অতীত রাজনৈতিক সংযোগ এবং বর্তমান অবস্থান নিয়ে জনমত তৈরি হয়, তখন সামাজিক মাধ্যম বিতর্ক এবং প্রশ্ন উত্থাপনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করে।

এই প্রেক্ষাপটে ওমর সানীর পোস্ট এবং নেটিজেনদের প্রতিক্রিয়া সামাজিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজরে এসেছে। শোবিজ অঙ্গনের ব্যক্তিত্বদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, অতীতের রাজনৈতিক সম্পর্ক এবং বর্তমান প্রার্থী পছন্দের প্রভাব নিয়ে আলোচনা দেশের নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

উল্লেখ্য, এই ঘটনা বাংলাদেশে শোবিজ এবং রাজনীতির সংযোগ, নির্বাচনী প্রচারণায় তারকারা কীভাবে অংশ নিচ্ছেন এবং তাদের পারিবারিক রাজনৈতিক ইতিহাস কিভাবে জনমত প্রভাবিত করছে, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ