গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি, ভোটের হার জানাবে ইসি

গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি, ভোটের হার জানাবে ইসি

জাতীয় ডেস্ক
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর ভোটের হার প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা নির্দিষ্ট সময় অন্তর কমিশনে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, ভোটের দিন সকাল থেকে ভোটগ্রহণ চলাকালে প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা সংগ্রহ ও প্রেরণ করতে হবে। এই তথ্য নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি কমিশনের কাছে পৌঁছাবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় সরকারি রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে নিয়োজিত ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নির্বাচন কমিশনের ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (ইএমএস) লগইন করে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের ভোটের সংখ্যা নির্ধারিত সময় অন্তর এন্ট্রি করবেন। ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কর্তৃক তথ্য এন্ট্রি সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সরকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা তা যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেবেন।

অনুমোদনের পর ওই তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত অ্যাকাউন্ট থেকে ‘কপ্ট ড্যাশবোর্ডে’ দেখা যাবে। কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, এই ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে সারাদেশের ভোটগ্রহণ পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ভোটের হার সম্পর্কিত তথ্য নির্ভুল ও স্বচ্ছভাবে সংরক্ষণ করা যাবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোটের দিন ভোটার উপস্থিতি ও ভোটগ্রহণের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য প্রকাশের মাধ্যমে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। কমিশনের মতে, প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর ভোটের হার প্রকাশ হলে ভোটারদের মধ্যে আস্থা বাড়বে এবং নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি আরও সুদৃঢ় হবে।

এর আগে বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটের হার নিয়ে বিভ্রান্তি বা অসম্পূর্ণ তথ্যের অভিযোগ ওঠে। সে অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে কেন্দ্রভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান। ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে তথ্য সংরক্ষণের ফলে পরবর্তী সময়ে নির্বাচন সংক্রান্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করাও সহজ হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, ভোটের সংখ্যা সংগ্রহ ও এন্ট্রির ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সূচি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। কোনো কেন্দ্র থেকে তথ্য প্রেরণে বিলম্ব বা গাফিলতি হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বহন করতে হবে। একই সঙ্গে তথ্যের যথার্থতা ও সামঞ্জস্য বজায় রাখতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সক্রিয় তদারকি নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ভোটের দিন কেন্দ্রগুলো থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে সামগ্রিক ভোটের হার প্রস্তুত করা হবে। এই হার কমিশনের পক্ষ থেকে নির্ধারিত মাধ্যমে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। এতে করে নির্বাচন চলাকালীন সময়ে ভোটগ্রহণের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো স্পষ্ট ধারণা পাবে।

গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন সার্বিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রশাসনিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে কাজ চলছে। কমিশনের আশা, নির্ধারিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের প্রতিটি ধাপ আরও সংগঠিত ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ