ডিম নিক্ষেপের অভিযোগে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিবাদ

ডিম নিক্ষেপের অভিযোগে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিবাদ

রাজনীতি ডেস্ক

ঢাকা-১২ আসনের নির্বাচনী প্রার্থী ও আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানের ওপর নির্বাচনী জনসংযোগের সময় ডিম নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) তিনি ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে আপলোড করা একটি ভিডিওতে এ ঘটনা উল্লেখ করেন এবং তাতে সাম্প্রতিক নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন পথসভা ও জনসংযোগে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেন।

ভিডিওতে মো. তারেক রহমান বলেন, “আমার ওপর ডিম হামলা হয়েছিল। তাই কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিয়েছে, সেজন্য আমি সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমাদের দল যখন নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে, তখন কিছু লোক ডিম নিক্ষেপ ও পথসভায় বাধা দিচ্ছে। এই বিষয়গুলোর ভিডিও আমাদের কাছে আছে।”

তিনি আরও বলেন, “আজ যারা মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার অর্জন নিয়ে অবমাননা করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধের কথা স্পষ্ট। আমাদের মুক্তিযোদ্ধারা এখনও জীবিত আছেন এবং তাদের অবদানকে আমরা হরহামেশা স্মরণ করি। প্রতিবাদ করার সময় বলা হয়, ‘তারেক ভাই আপনি বদলে গেছেন’। আমি কখনো দেশের বা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করিনি। যারা ১৯৭১ সালে সহিংসতার সঙ্গে মানুষ হত্যা করেছিল, তাদের পক্ষে আমাদের কথা বলার কোনো সুযোগ নেই।”

এর আগে নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি স্থানীয় সমিতি ও নির্বাচনী অঞ্চলে বিভিন্ন সমস্যা থাকার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আপনাদের এলাকায় যদি কোনো ব্যক্তি খুন বা অপরাধ সংঘটিত করে, তাকে ক্ষমা দেয়া হলে, আমরা সেটি সমর্থন করি না। একইভাবে, যারা হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণ করেছে তাদের ক্ষমা দিয়ে কোনো পদদানে সমর্থন হওয়া উচিত নয়।”

মো. তারেক রহমান ভিডিওতে দোষী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানান। তিনি বলেন, “যেখানে আমাদের জনসংযোগ কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হচ্ছে, ডিম নিক্ষেপ করা হচ্ছে বা জনসভায় হুমকি সৃষ্টি করা হচ্ছে, তার ভিডিও প্রমাণ আমাদের কাছে রয়েছে। আমরা আইনগতভাবে আমাদের অধিকার রক্ষা করব।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনী প্রচারণার এই ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়। প্রতিটি প্রার্থী ও দলের সমর্থকদের সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনারদের পর্যবেক্ষণ ও তৎপরতা প্রয়োজন।

এ ছাড়া, স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের নিরাপদে প্রচারণা চালাতে এবং ভোটারদের স্বাভাবিক ভোটদানের পরিবেশ নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। বিশেষ করে ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা এবং জনসংযোগের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উভয় পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ন।

মো. তারেক রহমানের অভিযোগ অনুসারে, এই ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নির্বাচনী প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত। তবে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

রাজনীতি শীর্ষ সংবাদ