রাজধানী ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘গণভোট-২০২৬’-এর প্রেক্ষাপটে রাজধানীর ঢাকা-৮ ও ঢাকা-৯ আসনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৩)। নির্বাচনী জনসভা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে এলাকায় বিশেষ ‘রোবাস্ট’ টহল, মোটরকেড পেট্রোলিং এবং গোয়েন্দা নজরদারি পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) র্যাব-৩-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা-৮ আসনের পীর জঙ্গী মাজার রোড এলাকার মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল প্রাঙ্গণ এবং ঢাকা-৯ আসনের বাসাবো তরুণ সংঘ মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভাগুলো পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ টহল মোতায়েন করা হয়েছে। জনসমাগমপূর্ণ এসব স্থানে সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরূপণ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
র্যাব-৩ জানায়, নির্বাচন উপলক্ষে রাজধানীর সবুজবাগ, মুগদা, শাহজাহানপুর, খিলগাঁও, শাহবাগ, মতিঝিল, পল্টন ও রমনা থানা এলাকায় সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিশেষ টহল কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-৮ ও ঢাকা-৯ আসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা নিয়মিত রোবাস্ট টহল অব্যাহত রয়েছে। টহলের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সংযোগ সড়ক, জনসমাবেশস্থল ও স্পর্শকাতর এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অলি-গলি ও গুরুত্বপূর্ণ করিডোরে মোটরকেড পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে নির্বাচনী এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নির্বাচন ও গণভোটের কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী টহলের সংখ্যা ও জনবল সমন্বয় করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র্যাবের ভূমিকার বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারে বাহিনীটি নিয়মিত তৎপর রয়েছে। সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই র্যাবের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ আসনগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ একটি নিয়মিত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। ঢাকা-৮ ও ঢাকা-৯ আসন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখানে জনসমাবেশ, প্রচারণা ও ভোটকেন্দ্র ঘিরে জনসমাগম বেশি থাকে। এ কারণে আগাম প্রস্তুতি হিসেবে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হলে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, র্যাব ছাড়াও পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য সহায়ক বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে। একই সঙ্গে জনসাধারণকে যেকোনো সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজধানীতে নির্বাচনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা জোরদারের ফলে জনসভা ও প্রচারণা কার্যক্রম নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা। নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ ধরনের তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


