নির্বাচনী ছুটিতে আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের একগুচ্ছ নির্দেশনা

নির্বাচনী ছুটিতে আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের একগুচ্ছ নির্দেশনা

অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও অর্থের অপব্যবহার রোধে একাধিক নিয়ন্ত্রণমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্বাচনকালীন টানা ছুটির মধ্যে ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ রাখার পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের কিছু সেবা সাময়িকভাবে সীমিত করার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে দ্রুত সংশ্লিষ্ট থানায় অবহিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। নির্দেশনায় বলা হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এবং ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশের (এনপিএসবি) আওতাধীন ইন্টার ব্যাংক ফান্ড ট্রান্সফার (আইবিএফটি) ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে (পি-টু-পি) অর্থ লেনদেনের অপব্যবহার ঠেকাতে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য লেনদেনের সীমা আরোপ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৬ ঘণ্টা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ব্যক্তি হিসাবভিত্তিক পি-টু-পি লেনদেন সীমিত থাকবে। এই সময়সীমার মধ্যে বিকাশ, নগদ, রকেটসহ সব মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডারের ক্ষেত্রে অভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে একবারে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকার বেশি অর্থ পাঠানো যাবে না। পাশাপাশি দিনে সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেনের মাধ্যমে মোট সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যাবে। তবে সাধারণ ভোক্তা ও নাগরিকদের প্রয়োজন বিবেচনায় কিছু সেবা এই সীমাবদ্ধতার বাইরে রাখা হয়েছে। নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, মার্চেন্ট পেমেন্ট বা কেনাকাটার বিল পরিশোধ এবং বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ ইউটিলিটি বিল পরিশোধের মতো জরুরি সেবাগুলো আগের নিয়ম অনুযায়ী চালু থাকবে।

এছাড়া নির্বাচনকালীন সময়ে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে তাৎক্ষণিক অর্থ স্থানান্তর সেবা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আলোচ্য ৯৬ ঘণ্টায় আইবিএফটির মাধ্যমে পি-টু-পি ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেন কার্যকর থাকবে না। তবে ব্যাংকিং ব্যবস্থার অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এবং গ্রাহকদের ন্যূনতম সেবা নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, নির্বাচন উপলক্ষে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ গ্রহণ, যাচাই ও নিষ্পত্তির জন্য প্রতিটি এমএফএস প্রোভাইডারকে নিজস্ব কুইক রেসপন্স সেল গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণের আওতায় আনতে হবে। কোনো সন্দেহজনক, অস্বাভাবিক বা আইনবিরোধী লেনদেন শনাক্ত হলে তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে এমএফএস প্রোভাইডার ও ব্যাংকগুলো নির্বাচন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহযোগিতা প্রদান করবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে আর্থিক খাতে নজরদারি জোরদার করার অংশ হিসেবেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়।

এদিকে নির্বাচন উপলক্ষে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা চার দিন সরকারি ছুটি থাকবে। এর মধ্যে শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি অন্তর্ভুক্ত। এই দীর্ঘ ছুটির সময়ে সাধারণ মানুষের নগদ অর্থ উত্তোলন ও দৈনন্দিন লেনদেন নির্বিঘ্ন রাখতে সব ব্যাংককে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্বাচনকালীন সময়ে অর্থের অবৈধ ব্যবহার, অতিরিক্ত নগদ প্রবাহ এবং সন্দেহজনক লেনদেন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে জরুরি ও প্রয়োজনীয় আর্থিক সেবা সচল রাখার মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অর্থ বাণিজ্য শীর্ষ সংবাদ