নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিলে ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ, লঙ্ঘনে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান

নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিলে ৩০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ, লঙ্ঘনে সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান

জাতীয় ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল সরকারি গেজেটে প্রকাশের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থীকে তাদের নির্বাচনী ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই হিসাব দাখিল না করলে বা বিধান অনুসরণে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সোমবার এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অবহিত করেছে।

পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ধারা ৪৪গ (১) অনুযায়ী নির্বাচিত প্রার্থীর নাম গেজেটে প্রকাশের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনী এজেন্টকে নির্ধারিত ফরম-২২ অনুসারে হলফনামাসহ নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হবে। কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট না থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী নিজেই এজেন্ট হিসেবে গণ্য হবেন এবং হিসাব দাখিলের দায়ভার তাঁর ওপর বর্তাবে।

নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, ২০০৮-এর বিধি ৩১ অনুসারে, ব্যয়ের হিসাব দাখিলের ক্ষেত্রে ফরম-২২ক, ২২খ ও ২২গ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এসব ফরমে ব্যয়ের বিস্তারিত বিবরণ, সম্ভাব্য তহবিলের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যয়ের রিটার্নের সঙ্গে হলফনামা সংযুক্ত করতে হবে। পরিপত্র অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিলের পাশাপাশি ব্যয়ের হিসাব ও হলফনামার অনুলিপি রেজিস্টার্ড ডাকযোগে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানোও বাধ্যতামূলক।

পরিপত্রে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব প্রার্থী—বিজয়ী ও পরাজিত নির্বিশেষে—এই বিধানের আওতায় পড়বেন। এমনকি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত প্রার্থী কিংবা যারা নির্বাচনী প্রচারে কোনো ব্যয় করেননি বলে দাবি করছেন, তাঁদেরও নির্ধারিত ফরমে সে তথ্য উল্লেখ করে ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে হবে। অর্থাৎ, ‘শূন্য ব্যয়’ হলেও হিসাব দাখিলের বাধ্যবাধকতা থেকে কোনো প্রার্থী অব্যাহতি পাবেন না।

নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে দাখিল না করলে বা সংশ্লিষ্ট বিধান লঙ্ঘন করলে তা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ধারা ৭৪ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধারায় দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে ন্যূনতম দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পরিপত্রে এ বিষয়টি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রার্থীদের আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়, কোনো প্রার্থী নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘন করলে রিটার্নিং কর্মকর্তা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো মামলা না থাকলে ছয় মাসের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে। তবে নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো বিষয় যদি হাইকোর্টে বিচারাধীন থাকে, সে ক্ষেত্রে আদালতের আদেশের তিন মাসের মধ্যে মামলা দায়ের করা যাবে। এ ধরনের মামলার জন্য নির্বাচন কমিশনের পূর্বানুমতির প্রয়োজন হবে না বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৪৪ঘ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নির্বাচনী ব্যয়ের সম্ভাব্য তহবিলের উৎস, ব্যয়ের রিটার্ন এবং সংশ্লিষ্ট দলিল-দস্তাবেজ রিটার্নিং কর্মকর্তা সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত সংরক্ষণ করবেন। প্রয়োজনে এসব নথি যাচাই ও আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশনার মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমা ও বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আইনানুগ শৃঙ্খলা বজায় থাকবে বলে কমিশনের পরিপত্রে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

জাতীয় শীর্ষ সংবাদ