খেলাধূলা ডেস্ক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সূচিতে ভারত ও পাকিস্তান মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) শেষ পর্যন্ত রাজি হয়েছে। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) লাহোরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) এক বৈঠকে অংশগ্রহণ করে এই সিদ্ধান্তের পথ প্রশস্ত হয়।
বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল তিন পক্ষের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিদেশীয় ক্রিকেট সম্পর্ক সুসংহত করা। বিসিবি বৈঠকে পিসিবিকে ভবিষ্যতে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে।
ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ জানিয়েছে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ যৌথভাবে আরও কিছু প্রস্তাব সামনে এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ভারত–পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ পুনরায় চালুর উদ্যোগ এবং তিন দেশকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের পরিকল্পনা। তবে এসব প্রস্তাব আইসিসি কতটা গুরুত্ব দেবে তা এখনও নিশ্চিত নয়।
আইসিসি তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সদস্য অংশগ্রহণ চুক্তি (মেম্বার পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট, এমপিএ) এবং ২০২৪ সালে গৃহীত হাইব্রিড মডেল অনুসারে পাকিস্তানের ম্যাচ বয়কটের জন্য আলাদা কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। এ কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি এই পরিস্থিতিকে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে।
অন্যদিকে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এবং সরকারের অবস্থান এখনও স্পষ্ট নয়। ভারত সরকার অনুমোদন না দিলে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আয়োজন কঠিন হয়ে যায়। এ কারণে বাংলাদেশ সফর নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে যে ধরনের কূটনৈতিক ও ক্রীড়া টানাপোড়েন চলছে, তা সহজে সমাধানযোগ্য নয়।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের যৌথ উদ্যোগের একটি লক্ষ্য হলো দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে সম্পর্ক উন্নয়ন। বিশেষত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যে দীর্ঘদিনের দ্বিপাক্ষিক বিরোধ কমাতে সাহায্য মিলতে পারে। ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাবও এই প্রেক্ষাপটকে দৃঢ় করার একটি উপায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি ভারত সরকার দ্বিপাক্ষিক সিরিজের অনুমোদন দেয়, তবে এটি কেবল ক্রীড়া নয়, সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে পুনরায় সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে এ ধরনের উদ্যোগের বাস্তবায়ন রাজনৈতিক অনুমোদন ও নিরাপত্তা বিষয়ক শর্তের উপর নির্ভর করবে।
এই আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা আইসিসি, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যকার যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক ও ত্রিদেশীয় সিরিজ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা পরীক্ষা করবে। আগামী কয়েক সপ্তাহে ভারত সরকারের অবস্থান এবং বিসিসিআইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এই প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
সব মিলিয়ে, দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেটে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ পুনঃস্থাপনের সম্ভাবনা নতুন আলোচনার মাধ্যমে সামনে এসেছে। একই সঙ্গে তিন দেশের সমন্বয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাব দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট কূটনীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।


