রাজনীতি ডেস্ক
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে সরকারি দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সরকারি বাসভবন ত্যাগ এবং কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরতের মাধ্যমে তারা নতুন সরকারের জন্য দায়িত্বের সাবলীল হস্তান্তর নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া নিচ্ছেন।
জানা গেছে, ইতিমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের দুজন উপদেষ্টা তাদের সরকারি বাসা ছাড়েন এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে এটি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন। এছাড়া অন্তত ১৩ জন উপদেষ্টা ও একজন চুক্তিভিত্তিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। অনেকে জানিয়েছেন, দায়িত্বকাল শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত পাসপোর্ট নিজেদের কাছে রাখবেন, তবে বিদায়ের সময় সরকারি সবকিছুসহ পাসপোর্টও ফেরত দেওয়া হবে।
সরকারি কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা ইতিমধ্যে স্টাফদের মাধ্যমে ব্যক্তিগত নথি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরকারি দপ্তর থেকে বাসায় নিয়ে গেছেন। সরকারের কার্যক্রম ও নথিপত্র সুষ্ঠুভাবে নতুন সরকারের কাছে হস্তান্তর করার লক্ষ্যে এই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ইতিমধ্যেই সরকারি বাসা ছাড়ার জন্য অফিসে চিঠি জমা দিয়েছেন। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন উপদেষ্টা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগে বাসা ছাড়ার এবং কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরতের পরিকল্পনা করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, লাল পাসপোর্ট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া হলো নতুন পাসপোর্টের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনাপত্তি পত্র সংগ্রহ করা। নতুন পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরনো কূটনৈতিক পাসপোর্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যহীন হয়ে যায়।
এখন পর্যন্ত নতুন পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন বা আবেদন করেছেন অন্তত ১৩ জন উপদেষ্টা। তাদের মধ্যে রয়েছেন—অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, মুক্তিযুদ্ধ ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
এছাড়া মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমও তাদের লাল পাসপোর্ট ফেরত দিয়েছেন।
উপদেষ্টা ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন পাসপোর্ট দ্রুত হাতে পাওয়ার মাধ্যমে তারা হস্তান্তর প্রক্রিয়ার জটিলতা কমাতে চাইছেন। পাসপোর্ট প্রাপ্তি এবং নথি হস্তান্তর সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যমে নতুন সরকারকে প্রশাসনিক দায়িত্ব গ্রহণে কোনো ধরনের বিলম্ব বা জটিলতার সম্মুখীন হতে হবে না।
সরকারি কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রক্রিয়া অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাভাবিক দায়িত্ব হস্তান্তর নিশ্চিত করার অংশ এবং এতে নির্বাচনের পর প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।


