অর্থ বাণিজ্য ডেস্ক
দেশের বাজারে এক দফা কমানোর পর আবারও স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন ঘোষণার অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকায়।
বাজুস মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে সারা দেশে নতুন এই দামে স্বর্ণ বিক্রি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে। এর আগে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাজুসের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন দাম বৃদ্ধির তথ্য জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে নতুন দর নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা, ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের স্বর্ণ ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায় বিক্রি হবে।
এর আগে চলতি মাসের ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বাজুস সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। তখন ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি দাম ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যা আগের দামের তুলনায় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমানো হয়েছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বর্ণের আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ওঠানামার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে পিওর স্বর্ণের সরবরাহ ও চাহিদার পার্থক্য দেশের স্বর্ণের মূল্যে প্রভাব ফেলছে। ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশের বাজারে মোট ২৮ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ বার দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ১০ বার দাম কমানো হয়েছে।
অন্যদিকে, রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৩৫৭ টাকায়, ২১ ক্যারেট রুপা ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ৯০৭ টাকায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বর্ণের দাম ওঠানামা সঞ্চয় ও বিনিয়োগকারীদের বাজারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, বড় ধরনের জুয়েলারি ব্যবসা ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীরা এই ধরনের দামের পরিবর্তনের দিকে খেয়াল রাখেন। দেশীয় বাজারে স্বর্ণ ও রুপার মূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য নিয়মিত সমন্বয় ও মনিটরিং প্রয়োজন।
এছাড়া, বাজুসের এই নতুন মূল্য নির্ধারণ দেশের ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের স্বর্ণ কেনাবেচার কার্যক্রমে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, দাম বৃদ্ধির ফলে স্বর্ণের চাহিদা সাময়িকভাবে কিছুটা কমতে পারে, তবে বিশেষ করে উৎসব বা বিয়ের মৌসুমে চাহিদা উচ্চ থাকায় স্বর্ণের বিক্রয় কার্যক্রম সচল থাকবে।


