সারাদেশ ডেস্ক
ঝিনাইদহের চারটি সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণকে ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলার মোট ৫৮৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৩৭টি কেন্দ্রকে স্থানীয় প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ঝিনাইদহ-১ আসনে ৫৬টি, ঝিনাইদহ-২ আসনে ৬৩টি, ঝিনাইদহ-৩ আসনে ৮৭টি এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনে ৩১টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সরঞ্জাম ইতোমধ্যেই কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জেলা শহরসহ প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। র্যাব, পুলিশ ও বিজিবির সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাড়তি নিরাপত্তা, কড়া নজরদারি এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ পদক্ষেপের লক্ষ্য সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা।
ঝিনাইদহের চারটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৫ লাখ ৭৫ হাজার ৩৪৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭ লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৩ জন এবং নারী ভোটার ৭ লাখ ৯১ হাজার ৫৩৪ জন। চারটি আসনে মোট ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচনকালীন এ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটারদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং কোনো ধরনের গোলযোগ রোধ করা লক্ষ্য রাখা হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ ও মনিটরিংয়ের জন্য স্থায়ী ও মোবাইল বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ-৩ আসনকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এজন্য সেখানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অন্যান্য আসনগুলোতেও ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখার জন্য জেলা প্রশাসন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।
এছাড়া, নির্বাচনী সরঞ্জাম সঠিক সময়ে কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ভোটগ্রহণের দিন কেন্দ্রগুলিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় পুলিশ ও র্যাবের সদস্যরা প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করবেন।
ঝিনাইদহের চার আসনে মোট ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক হিসেবে ধরা হচ্ছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি নির্বাচনী কর্মকর্তারা ভোটগ্রহণের সার্বিক প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনার জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।


