জাতীয় ডেস্ক
ঢাকা-১৭ আসনের চার স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। আজ (বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা-১৭ নির্বাচনের নির্বাচনি পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনার পর চার স্বতন্ত্র প্রার্থী তাদের সমর্থন জানিয়ে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। তিনি আরও জানান, প্রার্থীরা নিজেরা প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম আবুল কালাম আজাদ ও শামীম আহমেদ নিজ নিজ অবস্থান থেকে বিএনপি চেয়ারম্যানকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
ঢাকা-১৭ আসনের চার স্বতন্ত্র প্রার্থী যারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা হলেন—সাবেক সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট্রের (বিএনএফ) প্রেসিডেন্ট এসএম আবুল কালাম আজাদ, ডাব প্রতীকের প্রার্থী শামীম আহমেদ, আনারস প্রতীকের প্রার্থী মো. রাশেদুল হক এবং আপেল প্রতীকের প্রার্থী মঞ্জুর হুমায়ুন।
রাজনীতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই ধরণের সমন্বয় স্থানীয় রাজনীতিতে প্রার্থীদের কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন এবং দলীয় প্রার্থীর পক্ষে ভোটের প্রভাব বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্বাধীন বা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা যখন মূল প্রার্থীর পক্ষে সরে দাঁড়ান, তখন ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা কমে যায় এবং নির্বাচনী লড়াইতে কেন্দ্রীয় প্রার্থীর অবস্থান শক্ত হয়।
বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি প্রার্থী তালিকাকে বৈচিত্র্যপূর্ণ করে তোলে, তবে রাজনৈতিক সমন্বয় প্রক্রিয়া রাজনৈতিক দলের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে স্থানীয় স্তরে ভোটারদের কাছে নির্বাচনী শক্তি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সমর্থন প্রত্যাহারের এই ধরনের সিদ্ধান্ত প্রার্থীর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও কৌশলগত ক্ষমতা প্রতিফলিত করে।
ঢাকা-১৭ আসনটি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোর মধ্যে একটি। এখানে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচারণা ও ভোটাভুটি প্রক্রিয়া সাধারণত উচ্চ মাত্রার মনোযোগ ও সমীক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। পূর্বের নির্বাচনী ইতিহাসে দেখা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থন প্রত্যাহার স্থানীয় নির্বাচনী ফলাফলের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
নির্বাচনের প্রস্তুতি ও প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা নির্ধারণের প্রেক্ষাপটে ঢাকা-১৭ আসনের এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে লক্ষ্যণীয়। তারা বলছেন, নির্বাচনী সমন্বয় কেবল ভোটে প্রভাবই সৃষ্টি করে না, বরং স্থানীয় রাজনৈতিক মঞ্চে দলের কৌশলগত শক্তি ও নেতৃত্বের গুরুত্বও প্রতিফলিত করে।
এছাড়া, এই ধরণের সমন্বয় প্রক্রিয়া ভোটারদের কাছে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রার্থী তালিকার স্বচ্ছতার বার্তাও পৌঁছে দেয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, সমর্থন প্রত্যাহারের ঘোষণা ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে এবং নির্বাচনী প্রস্তুতিকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।
ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনের পূর্বপ্রস্তুতি, প্রার্থীদের অবস্থান পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক সমন্বয়ের এই ঘটনা আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।


