রাজনীতি ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এককভাবে সরকার গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জার্মানির ডয়চে ভেলেকে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি, নারী ক্ষমতায়ন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং গুম-খুনের বিচার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
তারেক রহমান ১৭ বছরের নির্বাসন পর দেশে ফিরে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেন। সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, দেশে ফিরে মায়ের মৃত্যু এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির মধ্যে সামঞ্জস্য রাখা ছিল তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি জানান, “এত বছর পর দেশে এসেছি, মানুষের প্রত্যাশা দেখেছি। তবে আসার পাঁচ দিন পরেই মায়ের মৃত্যু হয়েছে। একদিকে নির্বাচনের ডামাডোল, অন্যদিকে ব্যক্তিগত বিষয়—দুটোর সমন্বয় রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল।”
তরুণ ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং প্রথমবার ভোটদানের ক্ষেত্রে বিএনপি বিশেষভাবে পরিকল্পনা করেছে। তারেক রহমান বলেন, “আমাদের মেনিফেস্টোতে তরুণদের, বয়স্কদের, প্রতিবন্ধী এবং নারীদের জন্য বিশেষ কর্মসূচি রাখা হয়েছে। কারণ দেশের গঠন প্রক্রিয়ায় সকলের অংশগ্রহণ অপরিহার্য।”
ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারত এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, “যেকোনো চুক্তি যদি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তাহলে দূরত্ব স্বাভাবিক। তবে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করতেই আমাদের নীতি নির্ধারণ হবে। চীনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাদের দেশের মানুষের স্বার্থ বজায় রাখাই প্রাধান্য পাবে।”
জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠন সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনের সক্ষমতা রাখে। “আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হব, ইনশাল্লাহ। কাউকে অপজিশনে থাকতে হবে। একাধিক দল সরকারে থাকলে দেশ পরিচালনা কঠিন হয়ে যাবে।”
নারী ক্ষমতায়ন বিষয়েও তারেক রহমান বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিএনপি ক্ষমতায় এলে নারীদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো হবে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়াও, নারীর কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার জন্য কেয়ার সেন্টার, নারীর জন্য ইলেকট্রিক বাস চালু করা হবে। তিনি বলেন, “নারীদের শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা নিশ্চিত করা হলে তারা স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে অংশ নিতে সক্ষম হবে।”
তিনি দেশের ভোটারদের নিরাপত্তার গুরুত্বও উল্লেখ করেন। নারীদের ওপর কোনো ধরনের বিধিনিষেধ বা জীবন সংকুচ্চনের কোনো পরিকল্পনা বিএনপির নেই। তারেক রহমান বলেন, “নারীদের এমপাওয়ারমেন্টের মাধ্যমে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা হবে।”
দুর্নীতি ও ঋণগ্রস্ত প্রার্থীদের নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি ব্যাখ্যা দেন, “দুর্নীতি এবং ব্যাংক ডিফল্ট দুই ভিন্ন বিষয়। আমাদের দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা রাজনৈতিক কারণে করা হয়েছে। তবে তাদের ব্যবসা ও ব্যাংক লোনের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হয়েছে, যা ডিফল্টের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।”
গুম-খুনের শিকার ব্যক্তিদের বিচার নিয়ে তিনি জানান, বিএনপি সরকারের সময় নেতাকর্মীদের ওপর অতীতের হত্যাকাণ্ড ও গুমের বিচার নিশ্চিত করা হবে। “দেশের আইন অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তির অন্যায়ের বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এটা আমাদের সরকারের একটি অগ্রাধিকার।”
তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে এবং জনগণের সমর্থনে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে।


