ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্র শিল্পে ববিতার প্রত্যাশা ও একুশে পদক প্রাপ্তির প্রেক্ষাপট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলচ্চিত্র শিল্পে ববিতার প্রত্যাশা ও একুশে পদক প্রাপ্তির প্রেক্ষাপট

বিনোদন ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের মধ্যে ভবিষ্যৎ সরকারের নীতিগত অবস্থান ও অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে চলচ্চিত্র অঙ্গনের একজন জ্যেষ্ঠ শিল্পী হিসেবে অভিনেত্রী ববিতা দেশের চলচ্চিত্র ও বিনোদন খাতের বিষয়ে তাঁর প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। একই সময়ে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় চলতি বছরে চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি একুশে পদক পাচ্ছেন—যা চলচ্চিত্রাঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ববিতা বলেন, তিনি নিজেকে ছোটবেলা থেকেই চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত একজন মানুষ হিসেবে বিবেচনা করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে এই শিল্পমাধ্যমের সঙ্গে তাঁর পেশাগত সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাঁর ভাষায়, চলচ্চিত্রই তাঁর ধ্যান-জ্ঞান। এই পরিচয় থেকেই তিনি দেশের সিনেমা শিল্পের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সুরক্ষা বিষয়ে সরকারের ভূমিকার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী বলেন, ভবিষ্যৎ সরকারের কাছে তাঁর প্রত্যাশা থাকবে যেন চলচ্চিত্রসহ বিনোদন খাতকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়। তিনি উল্লেখ করেন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও বৈশ্বিক যোগাযোগের ফলে বিদেশি কনটেন্টের প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় দেশীয় চলচ্চিত্র শিল্পকে প্রতিযোগিতায় টিকিয়ে রাখার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ রক্ষার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তিনি আকাশ সংস্কৃতির প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বৈশ্বিক বিনোদনধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার সময় যেন স্থানীয় সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের সচেতন থাকা জরুরি।

ববিতার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশের চলচ্চিত্র শিল্প নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রেক্ষাগৃহ সংকট, দর্শকসংখ্যা হ্রাস, প্রযোজনা ব্যয়ের বৃদ্ধি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রসার এবং বিদেশি কনটেন্টের সহজলভ্যতা—এসব বিষয় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চলচ্চিত্র খাতকে নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নীতিগত সহায়তা, প্রণোদনা, আধুনিক অবকাঠামো এবং দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ ছাড়া এই শিল্পের টেকসই উন্নয়ন কঠিন।

এদিকে অভিনেত্রী ববিতার ব্যক্তিগত অর্জনের ক্ষেত্রেও বছরটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্প্রতি চলতি বছরের একুশে পদকপ্রাপ্তদের তালিকা ঘোষণা করেছে। ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ববিতাকে একুশে পদক প্রদান করা হবে। রাষ্ট্রীয় এই সম্মান দেশের ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিল্পে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য প্রতিবছর প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে ববিতা একটি পরিচিত নাম। তিনি স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে দেশের চলচ্চিত্রে নিয়মিত অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকমহলে পরিচিতি লাভ করেন। বিভিন্ন সময় তিনি বাণিজ্যিক ও গল্পনির্ভর উভয় ধারার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রদর্শিত হয়েছে। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি একাধিক রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি পুরস্কারও পেয়েছেন।

একুশে পদক প্রাপ্তির ঘোষণাকে চলচ্চিত্রাঙ্গনের অনেকেই একজন জ্যেষ্ঠ শিল্পীর দীর্ঘদিনের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের রাষ্ট্রীয় সম্মান শিল্পীদের কাজের প্রতি দায়িত্ববোধ ও অনুপ্রেরণা জোগাতে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি দেশের সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নতুন সরকার গঠিত হলে সংস্কৃতি ও বিনোদন খাত নিয়ে কী ধরনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি। তবে চলচ্চিত্র শিল্পের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের বক্তব্য ও প্রত্যাশা ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে আলোচনার অংশ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই প্রেক্ষাপটে ববিতার বক্তব্য এবং তাঁর একুশে পদক প্রাপ্তির ঘটনা চলচ্চিত্রাঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়চিত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিনোদন শীর্ষ সংবাদ